সভ্যতার সংকট ও মানবতার প্রত্যয় : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিতে মানুষ ও আধুনিক বিশ্ব

ড. রাজশ্রী ভট্টাচার্য, বেঙ্গল মিউজিক কলেজ অ্যাবস্ট্রাক্ট এই প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভ্যতা-ভাবনা ও মানবতাবোধকে ‘সভ্যতার সঙ্কট’ প্রবন্ধকেন্দ্রিক আলোচনার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ সভ্যতাকে কেবল প্রযুক্তি, শাসনব্যবস্থা বা বাহ্যিক উন্নতির মানদণ্ডে বিচার করেননি; বরং মানবিক মূল্যবোধ, হৃদয়বত্তা ও নৈতিক দায়বদ্ধতাকেই সভ্যতার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখেছেন। প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে, কীভাবে প্রথম পর্যায়ে ইউরোপীয় সভ্যতার আইন, শৃঙ্খলা ও মুক্তবুদ্ধির প্রতি তাঁর গভীর আস্থা গড়ে উঠলেও, ঔপনিবেশিক শাসনের শোষণমূলক ও মানবতাবিরোধী রূপ প্রত্যক্ষ করে সেই আস্থা ক্রমে ভেঙে পড়ে। বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে ইংরেজ শাসনের ‘Law and Order’-এর দ্বিচারিতা, মানবপীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ ও নৈতিক অধঃপতন, যা রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে সভ্যতার এক গভীর সংকটের সূচনা করে। বিশ্বযুদ্ধকালীন ইউরোপে যান্ত্রিকতা, ক্ষমতাদর্প ও আগ্রাসনের উত্থান তাঁর কাছে মানবতার পরাজয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। তবু রবীন্দ্রনাথ চূড়ান্ত নিরাশায় থেমে যান না। প্রাচ্য দর্শনের ধারণক্ষমতা, সহনশীলতা ও মানবিক চেতনায় তিনি নতুন সভ্যতার সম্ভাবনা খুঁজে পান। এই প্রবন্ধে আরও দেখানো হয়েছে, কীভাবে রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী ভাবনার সঙ্গে আলবার্ট আইনস্টাইন, চার্লি চ্যাপলিন ও জন লেননের চিন্তার সাযুজ্য লক্ষ্য করা Read More …

শিল্পে নান্দনিকতা : দর্শন

লোপামুদ্রা চক্রবর্ত্তী, অতিথি অধ্যাপিকা, মেমরি কলেজ ১ শিল্প বিষয়টি মানব সভ্যতা সৃষ্টির সাথে সাথে রূপ লাভ করেছে। যতদিন মানব-সভ্যতার প্রকৃত বিকাশ ঘটেনি ততদিন সে প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার সাথে লড়াই করেছে শুধুমাত্র জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য কিন্তু যেদিন থেকে মানুষ তার জীবন ধারণের সমস্যা কিছুটা দূর করতে পারলো, সেদিন থেকেই সে জীবন এবং জগতের সৌন্দর্য্যতা সম্পর্কে জ্ঞাত হতে থাকলো। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, “শিল্প হচ্ছে তাই যা নিছক প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি তাগিদ থেকে মানুষকে চালনা কোরে শিল্প সৃষ্টিতে নিযুক্ত করে”। রবীন্দ্রনাথের এই উক্তি শিল্প তত্ত্ব সম্পর্কে অনেকটাই যুক্তিযুক্ত সুতরাং বলা যাচ্ছে যে, কোনো সভ্যতার আমরা তখনই দিক্‌-চিহ্ন নির্ণয় করি যখন থেকে মানুষ নানা ভাবে জীবন, জগৎ ও প্রকৃতির মধ্যেকার সৌন্দর্য্য খোঁজার এবং তাকে জীবনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার সাধনায় মেতে ওঠে। শিল্পের জগৎ এবং শিল্পের বিষয়বস্তু এত বিভিন্ন ও এত বৈচিত্র্যময় যে তাকে বিশেষ একটি কোনো সংজ্ঞা বা বিশেষণের মাধ্যমে হয়তো সঠিকভাবে বোঝানো যায় না। তাই শিল্পের সংজ্ঞা বিষয়ে অনেক মত ও মতান্তর আছে। বিভিন্নভাবে শিল্পের ব্যাখ্যা আছে, বিভিন্নভাবে Read More …

দক্ষিনের বারান্দায় অবন ঠাকুর

জয়ন্তী মণ্ডল                                                                   পাঁচ নম্বর জোড়াসাঁকো বৈঠকখানা বাড়ির দক্ষিণের বারান্দা। বারান্দায় কালো বর্মা কাঠের নকশা করা চেয়ারটায় হেলান দিয়ে বসে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। হাতে দিসতে খাতা। একমনে যাত্রার পালা লিখছেন। অকালমৃতা কন্যা কুমুদিনী পুত্র মোহনলাল ধরেছে নাটক লিখে দিতে হবে। ওরা নাটক করবে। তাই দাদামশায় নিজের লেখা ‘এসপার ওসপার’ নাটককে যাত্রার পালায় লিখে দিচ্ছেন।                                                                     পালাটা লেখার পরই শুরু করে দিলেন মহড়া। ক’দিন মহড়া চলার পর তা’ সাড়ম্বরে অভিনয় হল দোতলার হলঘরে। হ্যাজাকের আলোয়। পর পর তিনদিন অভিনয়। শেষ দিন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এলেন যাত্রা দেখতে। যাবার সময় হেসে বলে গেলেন, ‘এ জিনিস অবন ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না।’          এরপর ধরলেন হিতোপদেশের গল্পগুলোকে। প্রথমেই হিতোপদেশের গল্প নিয়ে পালা বাঁধলেন ‘উড়নচন্ডীর পালা’। তারপর চলল কথামালা, পঞ্চতন্ত্র, ঈশপের গল্প নিয়ে  যাত্রার পালা বাঁধা,গান রচনা।          সেই সময় রাজশেখর বসুর গল্প গুলো প্রকাশ হচ্ছে। জনপ্রিয়তাও বেশ। প্রথমেই তিনি রাজশেখর বসুর অর্থাৎ পরশুরামের ‘লম্বকর্ন’কে পালায় রূপ দিলেন। তারপর ‘জাবালি’। এক এক করে কতকগুলো গল্প যাত্রা Read More …

ঝুমুর গানের রূপ ও রূপান্তর

ড: সোমা দাস মণ্ডল, অধ্যাপিকা, অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি ১ আদিবাসী সংস্কৃতির প্রবাহিত ধারায় লালিত ও বিকশিত হয়েছে বাংলা ঝুমুর গান। বাংলা ছাড়াও আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও আরো বিভিন্ন রাজ্যে ঝুমুর নামের গান ও নৃত্য ধারা প্রবাহিত হয়ে চলেছে বহুকাল। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে রাঢ় বাংলায় প্রচলিত লোকসংগীতের ধারাগুলির মধ্যে ঝুমুর গান অন্যতম | বহু প্রাচীন কাল থেকেই ঝুমুর গানের অস্তিত্ব রয়েছে | তবে বিভিন্ন সময়ে এই সংগীতের রূপ রেখার নানা পরিবর্তন ঘটেছে | নাগরিক সভ্যতার প্রভাবে গ্রামীন কৃষ্টির যেরূপ বিবর্তন ঘটছে, তাতে করে উল্লেখিত ঝুমুর গান বৈচিত্রপুর্ন হয়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক | এই প্রবন্ধে ঝুমুর গানের বৈচিত্র্যের দিকটাই তুলে ধরা হয়েছে | ঝুমুর গানের বিভিন্ন প্রকার গুলি ও তাদের বৈচিত্র্য, বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি সমন্ধেও এই প্রবন্ধে আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়াও ঝুমুর গানের উংস এবং স্বতন্ত্রতা সমন্ধেও কিছু আলোচনা এই প্রবন্ধে করা হল | আদিবাসী সংস্কৃতি হচ্ছে পৃথিবীর সমস্ত দেশেরই আদি সংস্কৃতি বা কৃষ্টির উৎস | লোকসংগীতের আদি অবস্থা আদিবাসীদের নাচ গান বাজনার মধ্যেই সীমিত ছিল | লোকসংগীত হল লোকসমাজ Read More …

Analytical Survey on Applied Theater in West Bengal

Dr. Biswajit Mandal,Guest professor, Rabindra Bharati University Applied theater is the use of theater and drama skills for teaching, social change and meaning-making purposes. The theater can make thinking, make feeling and make laugh & cry. But theater can change our mind and the world. Applied theater can change or develop the mind, activities, knowledge, education, skill etc. of any particular group of people in different aspects. In the global context this important subject ‘applied theater’ academically initiated in the year 2002 in under graduate & post graduate courses in different universities of UK, Australia, South America & Srilanka.  Eminent Indian dancer Alokananda Roy organized a workshop with the prisoners of UK this year. Twelve years back Alokananda organised and directed a drama ‘Balmiki Pratibha’ of Rabindranath Tagore with the prisoners of Alipore Central Jail in the year 2006. Here in India applied theatre was introduced as an educational subject in the Pondicherry University on Read More …

উচ্চাঙ্গ সংগীত : সেতার সরোদে নতুন প্রজন্ম

মৌসুমি ঘোষ       হাততালির শব্দে সৌনকের ঘুমটা ভাঙতেই ধড়পড় করে উঠে বসে। গ্রিনরুমের ভিতরে পাশাপাশি দুটো চেয়ারে পা তুলে সে বেশ এক ঘুম দিয়ে নিয়েছে। রাত জাগার অভ্যেস নেই। তার মধ্যে খুব শীত।    আবার হাততালির শব্দে ঘোর কাটে। চমকে তাকায় চার দিকে।  যাঃ! পণ্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণের বাজানো হয়ে গেল না তো! সৌনক রায়       তাড়াতাড়ি চেয়ার থেকে নেমে স্টেজের দিকে দু’পা যেতেই দ্যাখে পণ্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণ দর্শকদের দিকে  হাতদুটো নমস্কারের ভঙ্গিতে স্টেজ থেকে নামছেন। দর্শক আসন থেকে তখনো ভেসে আসছে হাততালির বন্যা।     এমনটাই হয়েছিল গেলবার ‘ডোভার লেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত সম্মেলনে’র তৃতীয় দিনে।     সৌনক রায় শিশু সরোদ শিল্পী। বয়স নয় কি দশ। ছোটবেলা থেকেই পন্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের কাছে সরোদের তালিম নিচ্ছে। সৌনকের বাবা-মা দুজনেই সরোদ বাজান। তাঁরাও শিখেছেন পন্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর কাছেই। বাবা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। আর মা সংসারের সব ভার নিয়ে, সন্তানের দেখাশোনা করেন। ছোট সৌনক বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছে সঙ্গীত প্রতিযোগিতায়। ‘ভিস্তার’ থেকে পেয়েছে সর্বভারতীয় সাফল্যের পুরস্কার।         সারারাত ধরে সঙ্গীত সম্মেলন। এতটুকু Read More …

বৃন্দ গানে মানুষ ও সমাজ

দেবাশিস মন্ডল * সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিকাশিত হয়েছে সঙ্গীত ধারা। যুগ যুগ ধরে সমাজের শোষণ-মুক্তির সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে সমবেত সঙ্গীত। কুসংস্কার, ধর্মন্ধতা, অন্যায়-অবিচার এসবের বিরুদ্ধেও সমবেত সঙ্গীত আন্দোলনের সহায়কশক্তি হিসাবে কাজ করেছে। শুধু একসঙ্গে অনেকে মিলে গাইলেই তা সমবেত সঙ্গীত হয় না। এ-জাতীয় সঙ্গীতের বিশেষ কিছু আদর্শ রয়েছে। পাশ্চাত্য সঙ্গীতে ‘কোরাল সঙ’ এবং ‘কোরাস’ এই দুটি পর্যায়ের সঙ্গীত সম্পর্কে আমরা বিভিন্ন গ্রন্থে আলোচনা দেখেছি। কোরাস ল্যাটিন শব্দ। গানের ক্ষেত্রে কোরাস বা কোরাল বলতে কোন বিশেষ রচনাকে সমবেতভাবে গাওয়া বোঝায়; যদিও তা সাধারণভাবে অপেরা, অরাটোরিও কন্টাটা এবং চার্চের গান গাওয়ার রীতিকেই বোঝায়। ইদানিং অবশ্য পাশ্চাত্য সঙ্গীতেও সমবেতভাবে গাওয়া প্রায় সব ধরনের গানকেই কোরাল সং বলা হয়। কিন্তু সমবেত সঙ্গীত সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে বিশেষভাবে নজর দেওয়া দরকার বিষয়গত দিকটি। যদি গানের বিষয় সমবেত আদর্শের পরিপন্থী হয় তবে তা সমবেত পর্যায়ের সঙ্গীত হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে সমষ্টির স্বার্থ-বিযুক্ত কোন চিন্তা সমবেত সঙ্গীতের পর্যায়ে পড়ে না। আদিম যুগ থেকেই বেশিরভাগ Read More …

ভারতে বয়স্ক শিক্ষার ইতিহাস

১৯৭৭ সাল থেকে বয়স্ক শিক্ষা – শক্তি মন্ডল ষষ্ঠ পরিকল্পনায় সকল নাগরিকের ন্যূনতম শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এই শিক্ষার সুযোগ-সৃষ্টির জন্য নমনীয়তা, বিভাগগুলির মধ্যে সহযোগিতা এবং সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করা হয়। পড়া ও গণিতের বিস্তৃত করা এবং মনুষের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দের জন্য ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশ করার ব্যাপারে প্রযুক্তিকে মুখ্য হাতিয়ার হিসাবে ভাবা হয়েছিল। ভাবা হয়েছিল, প্রাথমিক সাক্ষরতার পরবর্তী ধাপগুলি হবে। সাক্ষরোত্তর চর্চা এবং গ্রামীন পাঠাগারের সুবিস্তৃত ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ধারাবাহিক শিক্ষাক্রম এর সঙ্গে গণসংযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে, বিশেষত কক্ষপথে উপগ্রহ স্থাপনের পর নির্দেশিত পাঠক্রমেরও আয়োজন করা হবে। আগের পরিকল্পনাগুলিতে চালু বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচিকে এই পরিকল্পনায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হয়। ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কমসূচির অন্তর্গত বুনিয়াদী শিক্ষার অংশ হিসাবে বয়স্ক শিক্ষাকে অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ ও কর্ম বিনিয়োগ সংস্থার সহায়তায় রূপায়ণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ২০ দফা কর্মসূচির  মধ্যেও এটি স্থান লাভ করে। কর্মসূচির মধ্যে মহিলা, তপশিলী জাতি, উপজাতি, কৃষি-মজুর, বস্তিবাসি প্রভৃতি সমাজের দুর্বলতর অংশগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি, যারা Read More …

The Artistry of Kolkata Tabla Makers: A Harmonious Blend of Tradition and Craftsmanship

Biswajit Bhattacharjee Abstract: Kolkata, a prominent center for tabla manufacturing in India, has distinguished itself with a unique approach to crafting this revered percussion instrument. The tablas produced in Kolkata, known for their exceptional sound quality, are crafted from heavy wood, setting them apart from those made in Mumbai, Delhi, and Varanasi. The use of dense wood is believed to enhance the resonant sound of the Kolkata tabla. Notable features include smaller heads and a preference for heavier wood compared to other regions like Jaipur. The skilled artisans in Kolkata contribute significantly to the melodious and clear tones produced by the tabla and baya. The meticulous craftsmanship, particularly in the intricate black gab work on the tabla, adds an aesthetic dimension to the instrument. The success of Kolkata’s tabla makers is attributed not only to superior raw materials but also to the artisans’ exceptional artistic skills, combining technical prowess and musical understanding. Regarded as one Read More …

পটুয়া নারী : পটচিত্র ও গান

ড. জয়ন্তী মন্ডল, অতিথি অধ্যাপিকা, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃত ‘পট্ট’ শব্দ থেকে পট কথাটি এসেছে। ‘পট্ট’ শব্দের অর্থ কাপড়। পটচিত্র হচ্ছে একখণ্ড কাপড়ের উপর হিন্দু দেবদেবী কিংবা মুসলিম পীর-ফকিরদের বিচিত্র কাহিনী-সম্বলিত চিত্র। এই পটচিত্রের শিল্পীদেরই বলা হয় পটুয়া। পটুয়ারা সঙ্গীত সহযোগে পটচিত্র দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। তারা গানের সুরে দর্শক ও শ্রোতাদের পটচিত্রের আখ্যানভাগ বুঝিযে় দেয়। কাপড়ের উপর পট আঁকার রীতি ছিল প্রাচীন কালেও। তা থেকেই সাধারণভাবে কাপড়ে বা অন্য স্থানে আঁকা সব ছবিকেই পট বলার রীতি প্রচলিত হয়। যারা ছবি আঁকত তাদের বলা হত পটুয়া। এভাবেই পট ও পটুয়া কথার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে বাংলার মানুষ। প্রাচীন বাংলায় যখন কোন দরবারি শিল্পের ধারা গড়ে ওঠেনি তখন পটচিত্রই ছিল বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক। আর এ চিত্র যারা অঙ্কন করতেন বা এখনও পট রচনা করছেন তাঁদের বলা হয় পটুয়া।        ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পটের প্রচলন রয়েছে। বাংলার পটের সঙ্গে দক্ষিন ভারতের পটের চিত্রগত মিল পাওয়া যায়। ভারতের চিত্রকলা গ্রন্থেরব লেখক অলোক মিত্র লিখেছেন দাক্ষিনাত্য আর পশ্চিম বাংলার পশ্চিম Read More …