Vande Mataram: Historical Roots, Cultural Significance, and Impact on Indian Nationalism
Dr. Srabani Sen
Associate Professor, Department of Music, Tarakeswar Degree College
e-mail-dr.ssen8693 @gmail.com Mobile no- 6290855102
Bamkim Chandra Chattopadhyays song Vande Mataram is widely renowned as a hymn praise of the Motherland. Vande Mataram is a sanaskrit assertion meaning obeisance to the mother or the motherland. It has feel emotionally connected to the nation beyond region, language or religion. Initially it was composed for a journal Bangadarshan in 1875 and which later became a part of Bamkim Chandra’s famous novel Anandamath in 1882. Vande Mataram became a rallying cry for Indian nationalism, particularly during the Bengal Renaissance and the anti-partition movement of 1905.The Bengal Renaissance or the social, cultural and intellectual awakening of Bengal during the British rule beginning from 19th century, also played an important role in popularising the poem.
বন্দে মাতরম্ ও জাতীয়তাবাদী চেতনার উণ্মেষ
‘বন্দে মাতরম্’ গান তথা স্লোগানের দীর্ঘ জীবন পথটি আগাগোড়াই উথ্থানপতন কিংবা গ্রহণ বর্জনের এক দ্বান্দিক প্রক্রিয়া দ্বারা চিহ্নিত। গানটি প্রথমে প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৫ সালে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় অন্য একটি লেখার পাদপূরণ হিসেবে। পরবর্তীকালে এই পত্রিকা বাঙালি জীবন ও সংস্কৃতির ‘দর্পণ’ স্বরূপ হয়ে ওঠে। বঙ্কিমচন্দ্র কেবল বাঙালির মুখের ভাষাকে জনপ্রিয় করে তোলেন নি, তিনি তাঁর সমকালীন প্রতিটি বাঙালির মধ্যে এক জাতীয়তাবাদী চেতনার সঞ্চার করেছিলেন। এই ‘বঙ্গদর্শন’ সম্পাদনাকালে বঙ্কিমচন্দ্র রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত ‘বন্দে মাতরম্’ জাতীয় সংগীতটি। পরে ‘আনন্দমঠ’( ১৮৮২) উপন্যাসে এই সংগীতটি সন্নবিষ্ট হয়।
‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে সন্নিবিষ্ট ‘বন্দে মাতরম্’ ছিল পরাধীন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার বীজ মন্ত্র। বঙ্কিমের লেখনীতে, তাঁর দর্শনে হিন্দুধর্মকে তিনি এক দ্যোতনা রূপে দেখেছেন। আসুরিক শক্তির বিনাশে যেমন হিন্দুধর্মে বর্ণিত জগৎজননী মহামায়ার আবির্ভাব কল্পনা করা হয়, বঙ্কিমচন্দ্রও তেমন করে বহিঃশত্রু বিনাশে হিন্দুধর্মের দেবী মহিমার কথা বলেছেন। বঙ্কিমের অনুপ্রেরণায় স্বদেশী যুগে বহু লেখক এই রূপকের আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁরা সাম্প্রদায়িকতায় জারিত হননি।
উনিশ শতকের যুগনায়করা অনেকেই রক্তে যে স্ব-বিরোধ অসচেতনভাবে বহন করেছেন এদেশে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার ব্যাতিক্রম নন। সৃষ্টি ও জীবনধারার একাধিক মৌলিক বিষয়, জাতীয়তাবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে তার বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য বারবার ধরা পড়েছে। বঙ্কিমচন্দ্রকে ঘিরে কতগুলো বিরোধী আদর্শের, ধর্মীয় এবং সামাজিক আদর্শের উথালপাথাল, তর্ক চিন্তার প্রতিবিম্বন ঘটেছে।একদিকে ভারত পথিক রামমোহন রায়ের ব্রাহ্মসমাজের উত্থান, বিস্তার এবং পরে তার আদর্শগত দ্বন্দ্ব ও বিভাজন ও অন্যদিকে ডিরোজি ও তার ইয়ংবেঙ্গল শিষ্যগণ – কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিক কৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, প্যারীচাঁদ মিত্র প্রমুখের অবদান এবং আবেদন, ধর্ম বিষয়ক পৃথক অথচ সার্থক অবস্থান উল্লেখের দাবী রাখে।
১৮৮০ দশক থেকে বঙ্কিমচন্দ্রের ভাবনা নতুন মাত্রা নিয়েছিল। আগেকার যুক্তিবাদী, নিশ্বরবাদী, পজেটিভিস্টদের দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ করে তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের লেখায় তা খুব সুন্দর ভাবে ধরা পড়েছে- ‘বঙ্কিম বাবু তখন বঙ্গদর্শনের পালা শেষ করিয়া ধর্মালোচনায় প্রবৃত্ত হইয়াছেন। প্রচার বাহির হইয়াছে।…… এই সময় কলিকাতায় শশধর তর্ক চুরামণি মহাশয়ের অভ্যুত্থান ঘটে। ….সেই সময় হঠাৎ হিন্দুধর্ম পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের সাক্ষ্য দিয়া আপনার কৌলিন্য প্রমাণ করিবার চেয়ে অদ্ভুত চেষ্টা করিয়াছিল তাহা দেখিতে দেখিতে চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল। ……. কিন্তু বঙ্কিমবাবু যে ইহার সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগ দিতে পারিয়াছিলে তাহা নহে। তাহার “প্রচার” পত্রে তিনি যে – ধর্ম ব্যাখ্যা করিতেছিলেন তাহার উপরে তর্ক চূড়ামণির ছায়া পড়ে নাই…….। বঙ্কিম এক পেশিবহুল, শৃঙ্খলাপরায়ণ, বুদ্ধিমার্গীয় ‘অনুশীলন ধর্মে’র কথা ভেবেছিলেন। ১
বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর জাতীয়তাবাদের আদর্শকে একটা দার্শনিক নীতির উপর প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর রচিত ‘ ধর্মতত্ত্ব’ গ্রন্থে এই প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। ‘ধর্মতত্ত্ব’ কোঁত – এর ‘রিলিজিয়ান অফ হিউম্যানিটি’ দ্বারা প্রভাবিত ছিল। বঙ্কিমচন্দ্র ব্যক্তি জীবনের সমস্ত উপাদানের সমন্বয়কে ‘ধর্ম’ বলে সংজ্ঞায়িত করেন। বঙ্কিমচন্দ্র মনে করতেন মানব মনের ঐক্য ও সমন্বয় সাধন করার জন্য প্রয়োজন ছিল চিন্তার ওপর অনুভূতির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা এবং সেক্ষেত্রে আবেগ বা অনুভূতি, মনন এবং কর্ম উপাদানগুলি গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্কিমচন্দ্রের ধর্ম ঈশ্বরকেন্দ্রিক।
বঙ্কিমি জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা ভারতবর্ষে অনুপস্থিত ছিল। কারণ আর্যরা যখন এ দেশে এসেছিল তখন তাদের মধ্যে ঐক্য ছিল কিন্তু কালক্রমে যখন তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন তারা ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ভাষা, রাজ্য, ধর্ম ও ভৌগোলিক কারণে তাদের মধ্যে ঐক্য ব্যহত হয়। বঙ্কিমচন্দ্র আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন যে, যেখানে একই প্রদেশের অধিবাসীরা একই ভাষা, একই ধর্ম, একই জাতিভুক্ত ছিল, সেখানেও কোন জাতীয় ঐক্যের ভাব পরিলক্ষিত হয়নি। বঙ্কিমচন্দ্র জাতীয়তাবাদকে ধর্মের মর্যাদায় প্রতিবিম্বিত করতে চেয়েছিলেন। কারণ, তাঁর মনে হয়েছিল যে, ধর্ম ছাড়া অন্য কোন কিছুই ভারতীয় জনগণের হৃদয় আলোড়িত করতে পারে না। তাই তিনি দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ ধর্ম বলে প্রচার করেন।
বঙ্কিমচন্দ্র ধর্ম হিসেবে জাতীয়তাবাদের ধারণাকে আরও বিন্যস্ত আকারে প্রকাশ করেন। ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে অঙ্কিত সন্ন্যাসী চরিত্ররা মাতৃভূমি ছাড়া অন্য কাউকে মা বলে স্বীকার করত না। সমকালীন ভারতবর্ষের দুরবস্থা বোঝানোর জন্য তিনি দেবী কালির মূর্তির এক মৌলিক ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, দেবী কালী হলেন ভারতবর্ষের মর্যাদাহানির প্রতীক। ভবিষ্যৎ ভারতের মহত্ত্বের উপলব্ধি হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র দেবী দুর্গার মূর্তির ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে মাতৃভূমি দেবী দুর্গা রূপে তখনই প্রতিভাত হবেন, যখন তাঁর সমস্ত সন্তান তাঁকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করবে। অর্থাৎ, বঙ্কিমচন্দ্র মনে করতেন যে, জাতীয় রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জনের একমাত্র পথ হল জাতীয়তাবাদকে ভারতবর্ষের ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। ‘কমলাকান্তের দপ্তর’-এ তিনি দেবী দুর্গাকে বঙ্গভূমির সঙ্গে অভেদ বলে প্রতিপন্ন করেছিলেন। মাতৃভূমিকে তিনি ‘মা’ ও ‘দেবী’ বলে সম্বোধিত করেন। বঙ্কিম – বর্ণিত মাতৃভূমির এক মূর্ত রূপ পাওয়া যায় তাঁর রচিত ‘বন্দে মাতরম্’ সংগীতটিতে।
বঙ্কিমচন্দ্রের স্বদেশ প্রেম মানবনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি মনে করতেন মানবকল্যাণের প্রয়োজনে স্বদেশপ্রেমকে অনুশীলন করতে হবে। এই বিচারে তিনি জাতীয়তাবাদ ও আন্তর্জাতিকতাবাদের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব খুঁজে পাননি। কিন্তু মানবপ্রেম ও আন্তর্জাতিকতাবাদের এর অর্থ হল, জাতিতে জাতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন। সেক্ষেত্রে, দেখতে হবে এক দেশ যেন অন্য দেশের ক্ষতিসাধন না করে, আবার একই সঙ্গে যেন প্রতিমুক্ত দেশটি দ্বিতীয় দেশের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত না হয়।
জাতীয় ভাবনা বঙ্কিমচন্দ্রকে, প্রথম থেকেই বিচলিত করেছিল। তাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের
‘‘মিলে সব ভারত সন্তান একতান, মহাপ্রাণ
গাও ভারতের যশোগান’।
হোক ভারতের জয় জয় ভারতের জয় গাও ভারতের জয়
কী ভয় কী ভয় গাও ভারতের জয়।……২
রচনা আলোড়ন তুলেছিল। তাই ‘বঙ্গদর্শন’- এ ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে লিখলেন, ‘‘এই মহা গীত ভারতের সর্বত্র গীত হউক।’’ …. এই বিংশতি কোটি ভারতবাসীর হৃদয় মন্ত্র ইহার সঙ্গে বাজিতে থাকুক।৩ ভারতবর্ষের অখন্ডতা তিনি স্বীকার করেছেন।
১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে বন্দে মাতরম্ প্রকাশিত হল। ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ‘বালক’ পত্রিকায় ‘গান-অভ্যাস’ বিভাগে গানটিকে আংশিক উদ্ধৃত করা হল । পরের বছর কলকাতা জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এই গানটি গাওয়া হল। সেই ঘটনা কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাখি বন্ধন কবিতায় উল্লেখ করলেন –
গাহিব সকলে মধুর কাকলি
গাহিব বন্দে মাতরম্।
সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলং
সুখদাং বরদাং মাতরম্।……৪
১৮৯৬ সালের কংগ্রেস অধিবেশনে ‘বন্দে মাতারাম্’ গানটিতে সুর বসিয়ে শোনান রবীন্দ্রনাথ, কিন্তু পুরো গানটি করেননি। তার অল্প কিছুকাল পর, বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় হিন্দু-বাঙালিরা ‘বন্দে মাতরম্’ মন্ত্রে সকলকে ‘একসূত্রে বাঁধিয়াছি’ বলে আত্মপৃষ্ঠ-সমর্থন করল। উচ্চবর্ণ হিন্দু-নেতৃত্বে সেই শোরগোলের মধ্যেই, হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রতিক্রিয়ায় মুসলিমলীগের মাধ্যমে শুরু হয়ে যায় ভারতীয় রাজনীতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। যেখানে উচ্চবর্ণের বাঙালি হিন্দুরা মনে করত তারাই ‘দেশ’, আর তাদের প্রধান শত্রু দেশদখলকারী ব্রিটিশরা নয়, মুসলমানরাই। এই আবহের মধ্যে ‘বন্দে মাতরম্’ বাঙালি হিন্দু জাতীয়তাবাদের, হিন্দুদের উপনিবেশবাদ- বিরোধিতারও স্লোগান হয়ে উঠে। ‘সপ্তকোটি কন্ঠ-কলকল-নিনাদ’ তো বাঙ্গালীদেরই কলকলানি, ভারতের নয়। সমগ্র ভারত তখনও জাতীয় চেতনার দিগন্তে উপস্থিত নেই। রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ‘স্বাধীনতা-হীনতায়’ বাঁচার অনিহা ব্যক্ত করেছিলেন ,তখন বুঝিয়েছিলেন মুসলমানদের কাছে হিন্দুর অধীনতার কথা। সেই বাণীও মাতিয়েছিল ভদ্র বাঙালি হিন্দুকে। বিপিনচন্দ্র পালের মতে বঙ্গভঙ্গের আগে তারা ব্রিটিশ শাসনকে কোন ‘বন্ধন’ বলে ভাবতেন না।
‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনির ব্যবহার ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১১ই মার্চের বিপুল জনসমাবেশ টাউন হলে ঘটেছিল। সেখানে লক্ষ্য করা যায়, ১৯০৫ এর ২২শে অক্টোবর কার্লাইল সার্কুলার জারি হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ‘বন্দে মাতরাম্’ শৌখিন স্বাদেশিকতার পোশাক ত্যাগ করল। সে সময় সরলা দেবী কলকাতা থেকে ময়মনসিংহ উপস্থিত হলে তাকে কেবলমাত্র ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘ বন্দে মাতরম্’ নামে এক স্বদেশী গানের সংকলন- গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ১৯০৫- এর ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’ থেকে জানা যায় যে, পন্ডিত সম্প্রদায় ‘বন্দে মাতরম্’ সংগীত পরিবেশন করে তিন হাজার চারশ বাহান্ন টাকা জোগাড় করেছিল, রবীন্দ্র জীবনীকার প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, কবি এই দলের পুরোভাগে থেকে’ বন্দে মাতরম্’ গেয়ে পর্যটন করেছেন।৫
১৯০৬- এর কলকাতার জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে সরলা ঘোষালের কন্ঠে উদ্বোধন সংগীত ছিল ‘বন্দে মাতরম্’। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে বিপিনচন্দ্র পালের সম্পাদনায় ও কালীঘাটের হরিদাস হালদারের উদ্যোগে ‘বন্দে মাতারাম্’ নামে এক সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। ১৯০৭-এর সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাবনা, ঢাকা, নবদ্বীপ প্রভৃতি শহরে ‘বন্দে মাতরম্ সম্প্রদায়’ গঠিত হয়। এই যুগে আসমুদ্র হিমাচল বঙ্গভূমি সমবেতভাবে ব্রিটিশ-বিরোধিতায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল এবং বাংলা সাহিত্য ও সংগীত সেই জাতীয় জাগরণের মুখ্য ভূমিকা হয়ে উঠেছিল। কান্তকবি রজনীকান্ত, কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ,মনোমোহন চক্রবর্তী এবং আরও খ্যাত-অখ্যাত অসংখ্য কবি দেশপ্রেমকে সংগীতের রক্তকলমে পরিণত করে স্বদেশ জননীর বেদপীঠতলে উপহার দিয়েছিলেন-
তব চরণ-নিম্নে উৎসবময়ী শ্যামধরণী সরসা
উর্দ্ধে চাহ অগণিত মণিরঞ্জিত নভ নীলাঞ্চলা
সৌম্যমধুর দিব্যাঙ্গনা শান্ত কুশলদরশা।….৬
মারাঠি নেতা দাদা সাহেব খাপার্দে বলেন ,প্রতিটি খাঁটি ভারতবাসীর রণধ্বনি হল ‘বন্দে মাতারম্’। এমনকি ক্ষুদিরাম ও কানাইলাল ফাঁসির আগে বন্দে মাতরম্ ধ্বনি ব্যবহার করেছিলেন। বন্দে মাতরম্- এর জাতীয়তাবাদীর স্তোত্রকে স্তব্ধ করার জন্য ১৯০৮- এর দশই ডিসেম্বর কলকাতার পুলিশ কমিশনার আদেশ জারি করলেন, ‘ বন্দে মাতরম্’ সংগীত ও ‘আমার দেশ’ সংগীতের গ্রামাফোন রেকর্ড বিক্রি নিষিদ্ধ করা হলো। রবীন্দ্রনাথের কন্ঠে ‘বন্দে মাতরম্’ রেকর্ড করা হয়েছিল। ‘বন্দে মাতরম্’- এর জাতীয়তাবাদী বক্তব্যের প্রতিফলন নাট্যমঞ্চে প্রতিফলিত হলে – ‘সিরাজউদ্দৌলা’, ‘মীর কাসিম’, প্রভৃতি নাটকে জাতীয়ভাবে উদ্দীপক সংলাপের রেকর্ড বিক্রিয়ও নিষিদ্ধ করা হয়। আবার ‘বন্দে মাতরম্’ মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে যেসব হিন্দু বিপ্লবী ফাঁসির মঞ্চে জীবনের জয়গান গেয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই অন্য কোন ধর্মসম্প্রদায়কে ‘অপর’ বলে ভাবেন নি। ‘বন্দে মাতরম্ বলে যায় যাবে জীবন চলে’ – বলার সময় তাঁরা মুসলমান-বিরোধী শুধু হিন্দুদের দেশের কথা ভাবেননি। আশ্চর্যের ব্যাপার শুধু ‘বন্দে মাতারাম্’ স্লোগান দেওয়ার জন্য এত মানুষকে, এত বালককে লাঞ্ছনা অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল, উপনিবেশবাদীরা বুঝেছিল ‘আনন্দমঠ’ জাতীয়তাবাদী উপাদানকে ছাপিয়ে উঠেছিল। মুসলমান-বিরোধী হিন্দু সাম্প্রদায়িক উন্মত্ততা , যেটা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বিভেদ বাড়িয়ে তোলার সহায়ক ছিল । ১৯০৫ সালের পরে ‘বন্দে মাতরম্’ ভারতের জাতীয়তাবাদের স্লোগান এবং ‘আনন্দমঠ’ সশস্ত্র বিপ্লববাদীদের ‘বাইবেল’- এ পরিণত হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের মর্মলোকে অনুশীলনতত্ত্ব- সংক্রান্ত ভাবনার বিস্তার এই পর্বে নতুন একমাত্র লাভ করেছিল। আঞ্চলিক ইতিহাস এবং কিংবদন্তিতে গড়া এই উপন্যাস একসময় কিংবদন্তি হয়ে উঠল, যার মতাদর্শগত ভিত্তি তৈরী হয়ছিল জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং হিন্দুত্ববাদী স্বাভিমা থেকে ।
‘বন্দে মাতরম্’ গানের শেষ স্তবকটিতে দেখা যায় দেশমাতা আর মা দুর্গা একাকার-
‘ ত্বং হি দুর্গা দশপ্রহরণ-ধারিণী,
কমলা কমল- দল-বিহারিণী,
বাণী বিদ্যাদায়নী, নামামি ত্বাম।’……৭
বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, হিন্দুদের ওপর অধীনতার জোয়াল ব্রিটিশরা চাপায়নি, চাপিয়েছে মুসলমানরাই। ভারতের স্বাধীনতা ১৭৫৭-র অনেক আগেই অস্তমিত হয়েছিল।
১৯০৭ সালে অরবিন্দ ঘোষ বলেছিলেন, ‘আজ থেকে বত্রিশ বছর আগে’ বঙ্কিম তার সেই মহান গীতটি রচনা করেছিলেন; খুব অল্প লোকই সেদিন গানটি শুনেছিল; কিন্তু তারপর হঠাৎ এক শুভক্ষণে বাংলার মানুষ দীর্ঘকালের ভ্রান্তি কাটিয়ে মানুষ সত্যের খোঁজে বলে উঠল ‘‘বন্দে মাতরম’’। মন্ত্র উপলব্ধ হল। বাঙালি হিন্দু জাতীয়তাবাদ থেকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদে বন্দেমাতারাম এর উত্তোলন ঘটেছিল ‘১৮৮৬’ তে কলকাতায় অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনেই’। বঙ্গের কবি’ ১৮৮৬ সালের কংগ্রেসের অধিবেশনে স্বকণ্ঠে গিয়েছিলেন-
‘আমরা মিলেছি আজ মায়ের ডাকে’
এমন ঘরের হয়ে পরের পতন
ভাই ছেড়ে তাই কদিন থাকে।……৮
বিজয়লালের কথায় –
শুনিয়া সকলে বিস্মিত অন্তরে
দলে দলে আসি ঘেরিছে কবিরে
কবিবর আহা মধুমাখা স্বরেধ
করিছে সবারে সুধা বিতরণ! …. ৯
‘আনন্দমঠ’ ও ‘বন্দে মাতরম্’ বাঙালি তথা ভারতবাসীর হিন্দু জাতীয়তাবাদের কাছে এক আদর্শ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিল । ইতিহাসবিদদের মতে…… ১৯২০-র দশক থেকে ‘বন্দে মাতরম্’ হয়ে উঠল আগ্রাসী হিন্দু সম্প্রদায়িক স্লোগান। একদিকে বন্দে মাতরম্, অন্যদিকে আল্লা হু আকবর স্লোগান দিয়ে-হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা হল। ১৯২০ –র দশক হিন্দু সম্প্রদায়িক শক্তির বিকাশের দশক। বেশিদিন এই অবস্থা স্হায়িত্ব লাভ করেনি। ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জন্মগত হিন্দু পক্ষপাত পুনরায় মাথাচাড়া দিল। ধর্মকে ছাপিয়ে বন্দে মাতরম্ –এর জাতীয়তাবাদী তাৎপর্যকে তাঁর মতো করে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছিলেন গাঁধী।
১৯২১ সালে কলকাতায় দাঙ্গার সময়কালে প্রথম বন্দেমাতরম শব্দকে কেন্দ্র করে হিন্দু- মুসলমান সম্প্রদায় উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে মাতারাম এক যুদ্ধ মন্ত্র(war cry) হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। কিন্তু তা কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ছিল না। কারণ, অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে, হিন্দু- মুসলমান সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহাবস্থান করত এবং যৌথভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছিল। কিন্তু ১৯২০ সালের পর থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং বন্দেমাতরম শব্দ ব্যবহার করার ব্যাপারে মুসলমান সম্প্রদায় মুখর হয়ে ওঠে। এর পেছনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক মনোভাব অনেকাংশে দায়ী ছিল বলে মনে করা হয়।
১৯৩৭ সালের অক্টোবর মাসে মোঃ আলী জিন্নার নেতৃত্বে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের পঁচিশতম সম্মেলনে বন্দে মাতরম্ শব্দ প্রয়োগের বিরুদ্ধে যে- বক্তব্য পেশ করা হয়েছিল তা হল ‘the attitude of the [Indian National] Congress in foisting Bande Mataram as the national anthemupon the countryas callous positively anti-islamic idolatrous in in its inspiration and ideas and definitely subversive of the growth of genuine nationalism in India’।১০ যে কারণে এই সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে আইনসভা ও অন্যান্য স্থানে যে- সকল মুসলিম সম্প্রদায় যুক্ত আছে, তাদের নির্দেশও দেওয়া হয়, তারা যেন কোনভাবেই বন্দেমাতারামের মত ‘আপত্তিকর’ শব্দ ব্যবহার না করে। ১৯৩৭ এর অক্টোবর মাসে কংগ্রেসের উপসমিতি বন্দে মাতরম্- কে জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া যায় কি না, সে ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করতে থাকে এবং যে সিদ্ধান্ত নেয় তা হল, ‘ত্রিশ বছর ধরে দেশবাসীর অনেক আত্মত্যাগ এবং পরিশ্রমের ফলস্বরূপ ‘বন্দে মাতরম’ মন্ত্রে মানুষ একত্রিত হয়েছে।’’
‘বন্দে মাতারাম’ শব্দ ও গান এক জাতীয় প্রতীক হিসেবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখিয়েছে। বন্দে মাতারাম-এর প্রথম দুস্তবক বাংলা ছাড়াও দেশের অন্যত্র মানুষের মুখে মুখে ব্যবহৃত হয়েছে, যার গুরুত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। এই দুই স্তবকের মূল বক্তব্য হল মাতৃভূমি সৌন্দর্য রূপায়নে ধরা। সুতরাং ‘বন্দে মাতরম্’- এর মধ্যে কোনও বক্তব্য নেই, যা আপত্তিকর। বন্দেমাতারাম- এর খসড়া যদিও জহরলাল নেহেরু তৈরি করেছিলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তা সমর্থন করেন । কংগ্রেসের কার্যকরী সমিতি গুরুদেবের এই সম্মতিকে মেনে নেন এবং ‘বন্দে মাতা্ররম’- এর প্রথম দুই স্তবককে আপাত দৃষ্টিতে জাতীয় সংগীত হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। যদিও রবীন্দ্রনাথ আশ্বস্ত করেছিলেন যে, দ্বিতীয় স্তবকের মূল কথাই হল দেবী আরাধনা, যা কোনভাবেই ইসলাম বিরোধী নয়। প্রচুর তর্ক-বিতর্কের, পর অনেক চিন্তাভাবনার ভিত্তিতে বন্দে মাতারাম- কে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
১৯৩৭ সালের সর্বভারতীয় রাজনৈতিক মঞ্চে ‘বন্দে মাতরম্’ চরম বিতর্ক আকার ধারণ করে। ১৯৩৭-এর অক্টোবরের সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সভায় সুভাষচন্দ্র বসু পরামর্শ দিলেন, এ সমস্যার সমাধানে রবীন্দ্রনাথের উপদেশ গ্রহণ করা হোক। রবীন্দ্রনাথ আলাদা করে সুভাষচন্দ্রকে লিখে জানালেন, কংগ্রেস একটি সর্বভারতীয় সংগঠন, যেখানে হরেক ধর্মসম্প্রদায়ের মানুষের মেলবার কথা, সেই সংগঠনে গাওয়ার পক্ষে মা দুর্গার আরাধনা সংবলিত এই গানটি একেবারেই অনুপযুক্ত। রাষ্ট্রীয় সাধনায় আমাদের শান্তি চাই, ঐক্য চাই, শুভ বুদ্ধি চাই – কোন এক পক্ষের জিৎকে দুর্দম করে হার-জিতের অন্তহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা চাই নে।’ কবি বুঝিয়ে বললেন, গানটি প্রথম দুই স্তবকে ভক্তি আর কোমলতার যে- মনোভাব ব্যক্ত হয়েছে এবং ভারতমাতার সৌন্দর্যকে যেভাবে আবাহন করা হয়েছে, তা তাঁর মনকে স্পর্শ করে। ওই কাব্যাংশটিকে সমগ্র গানের অবয়ব থেকে এবং ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস থেকে ছিন্ন করে নিতে তাহার কোন অসুবিধা হয় না। গানের প্রথম অংশটি স্বতন্ত্রভাবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওই অংশটির মধ্যে যে- প্রেরণাদায়ী গুণ রয়েছে, তা কোন ধর্ম সম্প্রদায়ের কাছেই আপত্তিকর হতে পারে না। ‘বন্দে মাতরম’- কে জাতীয় স্লোগানে রূপান্তরিত করার পর থেকে বহু মহৎ ব্যক্তি এর জন্য অবিস্মরণীয় ও বিপুল আত্মত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে, সমগ্র গানটি ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইতিহাসটি মুসলমানদের মনে আঘাত দিয়েছে। তাই যদি গাইতেই হয়, তাহলে পুরো গানটি নয়, তার প্রথম দুটি গাওয়া উচিত। বস্তুত ১৮৯৬ সালের কংগ্রেস অধিবেশনেও তিনি পুরো গানটি গান নি। গান্ধীর মতে, ‘বন্দে মাতরম্’ ‘একটি বিশুদ্ধ রাজনৈতিক ধ্বনি’। ২৯ আগস্ট প্রার্থনা সভায় যখন ‘ বন্দে মাতরম্’ গাওয়া হলো, তখন মঞ্চে সোহরাবর্দী ও অন্য মুসলমানরা উঠে দাঁড়িয়ে বাকি শ্রোতাদের সঙ্গে একযোগে গানটিকে সম্মান জানান।১১ বন্দে মাতরম্ আবার ‘প্রাসঙ্গিক’ হয়ে উঠল তার শতবর্ষে।
জাতীয়তাবাদী হিন্দুত্বের ভাবনার রূপকার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ‘আনন্দমঠ’ ও ‘বন্দেমাতারাম’ আমাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের গৌরবময় অধ্যায়। বন্দে মাতরম্ ধবনি উচ্চারিত হোত আত্মত্যাগিদে। দেশপ্রেমের সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে ধর্মীয় মর্যাদায় উপস্থাপিত করা ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের উদ্দেশ্য, সেজন্য মানুষে-মানুষে বিভেদ-বিভাজন কোন অবস্থাতেই কাম্য ছিল না। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনেও বারে বারে দেখা গেছে ধর্ম আর রাজনীতির সংশ্রব। জাতীয়তাবাদী হিন্দুত্বের ভাবনা অপরিবর্তিতই থাকে গেছে, অবলুপ্ত হয়েছে পারস্পরিক সৌহার্দবোধ। সে জায়গা দ্রুত দখল করে নিচ্ছে বিদ্বেষ। মাতৃজ্ঞানে দেশ ভক্তির সেই পরাকাষ্ঠা আজ আর নেই, সেখানে হিন্দুত্ববাদের সঙ্গে মিশেছে উগ্রজাতীয়তাবাদ এবং সংকীর্ণতাবাদ। আর যেখানে ‘বন্দে মাতরম্’ ছিল বিপ্লবীদের অগ্নি মন্ত্র, পরাধীন জাতিকে উদ্বুদ্ধ করার প্রেরণা মন্ত্র।
তথ্যসূত্র
১। দেশ-১৭ই জুন ২০১৯, পৃঃ-১৮
২। ড.অরুণ কুমার বসু – বাংলা কাব্যসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীত,দে’জ পাবলিশিং,কলকাতা-৭০০০৭৩, পৃ:- ১৭৪
৩। সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (সম্পাদক), বঙ্গদর্শন, চৈত্র ১২৮৭, কলকাতা,পৃ:-৫৪৯
৪। জগদীশ ভট্টাচার্য, বন্দে মাতরম্, কবি ও কবিতা প্রকাশন, প্রথম প্রকাশ, জুন ১৯৭৮, কলকাতা,পৃ:- ২১
৫। রবীন্দ্র জীবনী, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ:- ১৩৯
৬।ড.অরুণ কুমার বসু – বাংলা কাব্যসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীত,দে’জ পাবলিশিং,কলকাতা-৭০০০৭৩, পৃ:- ১৭১
৭।বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আনন্দমঠ, বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ, আষাঢ় ১৩৪৫ বঙ্গাব্দ, কলকাতা,পৃ:- ২৩-২৪
৮। ড.অরুণ কুমার বসু – বাংলা কাব্যসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীত,দে’জ পাবলিশিং,কলকাতা-৭০০০৭৩, পৃ:- ৫৩২
৯। দেশ-১৭ই জুন ২০১৯, পৃঃ-১৯
১০। দেশ-১৭ই জুন ২০১৯,পৃঃ-১৯
১১। সুগত বসু, ভারত মাতা, দেশ ১৭ই জুন ২০১৯,পৃ:- ২০
সহায়ক গ্রন্থ
১। সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (সম্পাদক), বঙ্গদর্শন
২। জগদীশ ভট্টাচার্য, বন্দে মাতরম্
৩। রবীন্দ্র জীবনী, দ্বিতীয় খন্ড
৪। বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আনন্দমঠ, বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ
৫। দেশ-১৭ই জুন ২০১৯
৬। সুগত বসু, ভারত মাতা
৭। ড.অরুণ কুমার বসু – বাংলা কাব্যসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীত







