সংগীত শিক্ষা: গুরুশিষ্য পরম্পরা থেকে দূর শিক্ষা

লোপামুদ্রা চক্রবর্ত্তী “নমো যন্ত্র, নমো-যন্ত্র, নমো-যন্ত্র, নমো-যন্ত্র! তুমি চক্রমুখরমন্দ্রিত, তুমি বজ্রবহ্নিবন্দিত,…… …………তব পঞ্চভূতবন্ধনকর ইন্দ্রজালতন্ত্র।।” মানব সমাজ যে সময় থেকে সভ্য এবং উন্নততর হয়ে উঠেছে তখন থেকেই অর্থনীতি, রাজনীতি প্রভূত অনেক বিষয়ের সাথে শিল্প-সংস্কৃতি একটি অন্যতম অঙ্গ হিসেবে মানব সমাজে জায়গা করে নিয়েছে কারণ একটি সভ্য সমাজ কখনোই শিল্প-সংস্কৃতি ছাড়া গড়ে ওঠে না। শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষিত বিষয় হলো “সংগীত” এ কথা বলাই বাহুল্য। “সংগীত” ছাড়া মানব সমাজ মৃতপ্রায়। আমরা যখন আমাদের নিত্যকার জীবন যাপনে এক এক সময় হাঁপিয়ে উঠি তখন “সংগীত” শ্রবণের মাধ্যমে অনেকেই মানসিক ভাবে শান্তি অনুভব করি। আর আমাদের যারা গান-বাজনার ছাত্র-ছাত্রী আছেন তাদের কথা বলাটা ‘মায়ের কাছে মাসির গল্প’ শোনানোর মতো। এ কথা ঠিক যে, সকলের ক্ষেত্রে গান-বাজনা শেখা সম্ভব হয়ে ওঠেনা কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নত থেকে উন্নততর হয়ে ওঠার কারণে সবাই তা শুনতে পারেন। এখন আমি যদি এই বিষয়ের ওপর সবিশেষ  আলোকপাতকরি তাহলে সেই লেখনী প্রকান্ড আকার নেবে তাই আমি ‘সংগীত প্রশিক্ষণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদান’-কে উপলক্ষ্য করে একটি ছোট্ট বিষয়ের Read More …

নাট্য সংগঠক ও শিক্ষক কুমার রায়

ড. বিশ্বজিৎ মণ্ডল  বহুরূপীর বাংলা থিয়েটারের সঙ্গে কুমার রায়ের সম্পর্ক শৈশব থেকে। এই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় বাংলা থিয়েটারের আঙ্গিনায় মঞ্চ, পোষাক, সঙ্গীত পরিবেশনা প্রভৃতি সর্ব ক্ষেত্রে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন। তার কর্মের মধ্যে বৈচিত্রের স্বাদ পাওয়া যায়। এর প্রস্তুতিকাল খুব ছোটবেলা থেকে শুরু হয়েছিল। আধুনিকতার ছোঁয়া সর্বসময় সাধারণ স্রোতের উল্টোমুখে হাঁটে। প্রত্যেক যুগেই আধুনিকরা আসে এবং তারা সবসময় চলমান থাকে, এই চলমানতা পুরোনো কর্ম ঝেড়ে ফেলে নতুন কর্মের দিকে এগিয়ে যায়। কুমার ঠিক তারই একজন অগ্রদূত। তিনি কখনও পুরোনোকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইতেন না। একটা চিন্তার পেছনে তাঁর আর একটা চিন্তা কাজ করতো। মঞ্চ,পোষাক,অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে একাত্ম হওয়ার কথা ভাবতেন। সেই ভাবনা থেকেই বিভিন্ন মুহূর্তে নাটকীয় সংঘাত উঠে আসত। তাঁর চিন্তা,চেতনা সবসময় একটা নিজেস্ব মৌলিক কোনো আঙ্গিক প্রতিষ্ঠা করতো। তাঁর কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাথমিক ব্যাপার ছিলো শিল্প স্বয়ং। মানুষের মধ্যে শিল্পবোধ জাগিয়ে তোলা দর্শকের রুচির দোরগোড়ায় সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া নাটকের মূল উদ্দেশ্য। নাটক পরিচালনার মধ্যে বিপুল বৈচিত্র নিয়ে আসা, আধুনিক বুদ্ধিজীবি মননকে তুষ্ট করতে Read More …

Features for Style Identification of Hindustani Musicians

Dr. Kaushik Banerjee, Dr. Anirban Patranabis, Dr. Ranjan Sengupta, Dr. Dipak Ghosh Sir C V Raman Centre for Physics and Music, Jadavpur University, Kolkata 700032 Abstract Identification of style of a musician is hard to recognize by an amateur listener, but to expert music listeners or to the musical ears just one or two strokes are enough to recognize. So, what are the physical causes behind this mystery? Our aim is to find out those causes and analyze in such a way that could satisfy the musical standpoints. Important elements from the physical perspective are steady states of notes and silence. Steady states of note recognize prominent presence of a note. Number of occurrence of a note in a signal articulates the importance of that note. Use of silence is also a style statement of a good musician and it varies from one musician to another. There are some unique musical ornaments like Meend which Read More …

ফিরে দেখা : কলকাতায় সরোদ চর্চা

পণ্ডিত অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়  সরোদ যন্ত্রের সৃষ্টিতে ভারতে আসা আফগানকে ব্যবসায়ীদের উত্তরসূরীদের বিরাট অবদান আছে। সেই সব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থাকত রবাব নামে একটি বাদ্যযন্ত্র।  এটি একটি লোক বাদ্যযন্ত্র। যা তারা লোক সংগীতের সঙ্গে বাজাতেন। রপ্তানির সুবাদে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তাদের অনায়াসে যাতায়াত ছিল। দরবারী সঙ্গীত অর্থাৎ ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রতি তাঁরা ক্রমশ আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।  ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে তাদের অনেকেই পাঞ্জাবে ও উত্তরপ্রদেশের শাজাহানপুর বুলন্দশহর, বেরেলী, মোরাদাবাদ, নাজিবাবাদ ইত্যাদি অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন।  ক্রমশ তারা ভারতের বৃহৎ সংগীত পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য ভারতে প্রাচীনকাল থেকে রবাব এর মতো একটি বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন ছিল। যেটি রুদ্রবীণা নামে পরিচিত ছিল। মোগল দরবারে সংগীতরত্ন মিয়া তানসেন এই যন্ত্রটি বাজাতেন। তখন থেকে রুদ্রবীণা বাদ্যযন্ত্রটিকে ধ্রুপদী বীনা বা তানসেনী রবাব বলা হত। তবে এই বাদ্য যন্ত্রটির গঠন ও বাজাবার পদ্ধতি আফগানি রবাব থেকে একেবারেই আলাদা।  ঊনবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে তানসেন বংশের জাফর খাঁ,  সুর সৃঙ্গার যন্ত্রের উদ্ভাবন করেন। ধ্রুপদী রবাবের কাঠের প্লেটের বদলে ধাতুর প্লেট, চামড়ার জায়গায় কাঠের তবলী ও তাঁতের Read More …

The Divine Connection of BharatNatyam & Yoga

NrityaChuramani Rahul Dev Mondal ( Assistant Professor , Rabindra Bharati University , Department Of Dance ) In the Hindu tradition, gods and goddesses dance as a way of expressing the dynamic energy of life. The image of Nataraja represents the god of gods, Shiva, as the Lord of the Dance, choreographing the eternal dance of the universe as well as more earthly forms such as Indian classical dance (which is said to have originated from his teachings). In Hindu mythology Shiva is also Yogiraj, the consummate yogi, who is said to have created more than 840,000 asanas, among them the hatha yoga poses we do today. While a cultural outsider may not relate to these mythic dimensions in a literal way, dancers in India revere the divine origins of their dances, which were revealed to the sage Bharata and transcribed by him into the classic text on dance drama, the Natya Shastra (circa 200 c.e.). What many practitioners of Read More …

Vedic Musical String Instruments & Violin

Dr. Dipak Banerjee, Guest Assistant Professor, Rabindra Bharati University Abstract: There are many types of Chordophone or musical string Instruments used in Vedic age. Of them only two instruments are related with Violin. They are Pinga and Gargara. Some Western experts say, Violin is the ancestor of Indian bowing Musical String Instrument. Through, Europeans Invented Violin in 16th Century. According to the base of both information, this easy try to relate with Vedic Musical String Instruments and Violin. Keywords: Vedic age, Vedic Musical String Instruments, Pinga, Gargara, Violin, relation with Violin. Introduction: There were many types of musical string instrument used in Vedic age. Among this musical string instruments, one kind of musical string Instruments was bow shaped. Some experts of the West think that this kind of musical string Instrument was the ancestor of Violin. Pinga1 and Gargara2these two types of bowing musical string instruments were used in Vedic age. These types of musical Read More …

লোক সংগীত সম্পর্কে রবীন্দ্র ভাবনা ও লোকসংগীতের বিষয় বিভাজন

                                       ড. পুতুল চাঁদ হালদার ঊনবিংশ শতকের বাংলায় বহু প্রতিভাবান মনীষী জন্মগ্রহণ করেছিলেন-কি সাহিত্য জগতে, কি নাট্য জগতে, কি শিল্প, সংগীত, ধর্ম ও আধ্যাত্ম জগতে। তাঁদের পুণ্য স্পর্শে বাংলাদেশ শিক্ষা, সভ্যতা ও সাংস্কৃতি উজ্জ্বল আলোকে উদ্ভাসিত হয়েছিল।  নদী মাতৃক বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু যেমন একদিকে বঙ্গকে শস্য শ্যামলা করেছে, তেমনি অন্যদিকে চিন্তাশীল প্রতিভা দীপ্ত মনীষীদের আবির্ভাবে বাংলার শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি সহ নানা বিষয় সরস, সুন্দর, সাবলীল ও হৃদয়স্পর্শী হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববরেণ্য বিশ্বকবি রূপে বরণীয় হলেও তিনি বাংলার মাটিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং বাংলার শিক্ষা, দীক্ষা,আচার-ব্যবহার ও ধর্ম-সংস্কারকে ভিত্তি করেই তাঁর লোকোত্তর জীবনকে সর্ব সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। রবীন্দ্র পূর্ব বাংলার সাধারণ সমাজ, রাষ্ট্রজীবন, সাহিত্য চর্চা, নাটক, কাব্য, দর্শন, সংগীত, শিল্প, ধর্ম এমনকি আধ্যাত্ম ভাবধারা রবীন্দ্রনাথের জীবনকে যে প্রভাবিত করেছিল তা একান্তভাবে স্বীকার্য।  তবে তিনি সব কিছুকে তাদের নতুন রূপে, রসে ও ভাবে সুষমায়িত ও সমৃদ্ধ করেছিলেন একটি অভিনব ও স্বতন্ত্র দৃষ্টি ভঙ্গিতে। তাই তাঁর সকল সৃষ্টি আজ বাংলা তথা ভারতের সীমা অতিক্রম করে বিশ্ববাসীর অন্তর সিংহাসনে তাদের নিজস্ব Read More …

সর্পদেবী মনসা, নাগাম্মা, বালনাগাম্মা, মুদামা ও মঞ্চাম্মা

বিষহরি পূজা’ই  প্রকারান্তরে মনসা পূজা। আমাদের দেশে যেখানেই সাপের ভয় বা সাপের উৎপাত বেশি সেখানেই সাপের দেবী রয়েছে। তার পুজো হয়। নানা লোকাচার পালিত হয় সর্দপদেবীকে কেন্দ্র করে। বাংলায় বিশেষ করে দক্ষিন ও দক্ষিন পশ্চিম অঞ্চলে সাপের উৎপাত বেশি। তাই সাপের দেবীর মাহাত্ম নিয়ে লোকাচারও বেশি। এখানে সাপের দেবতা – মনসা ।গ্রামে গ্রামে মনসার থান আছে। সেখানে নিয়মিত মনসার পুজো হয়। আবার বাড়িতেও তুলসী তলার পাশে একটা মনসার ডাল পোঁতা থাকে। সেই মনসার গাছেও মনসা দেবীর অধিষ্ঠান বলে মনে করা হয়। বাংলার বাইরেও সাপের নানা দেবতা আছে। কোথাও নাগরাজ, কোথাও নাগাম্মা। আবার বালনাগাম্মা, মুদামা ও মঞ্চাম্মা ইত্যাদি আরো কতো নাম। দেবীর মাহাত্মনিয়ে অনেক গল কথা মুখেমুখে প্রচলিত। তা নিয়ে কত গল্প , নাটক সিনেমা হয়েছে। এখনো তা মানুষের কাছে অসীম আগ্রহের বিষয়। গ্রামের সার্বজনীন মনসা থানে সমবেত হয়ে যে সমস্ত বার ব্রত ও উপবাস গুলির পালন করা হয় তার মধ্যে জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্ল দশমীতে অনুষ্ঠিত বিষহরি মনসা পূজার ব্রত অন্যতম এক মাঙ্গলিক ব্রত রূপে বিবেচিত Read More …

আলোর উৎসব : কুলকুলোতি

তুলসী প্রদীপ পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হুগলি জেলার জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কুলকুলোতি ব্রত ও উৎসব হয়ে থাকে। ‘কুলকুলোতি’ বা ‘কুলকুলতি’  গ্রামীন লোকাচার পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে বা হারিয়ে যাওয়া মানুষদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয়ে থাকে।আবার কুলের মঙ্গল কামনাতেও এই ব্রত হয়ে থাকে। কার্তিক মাসের প্রথম দিন থেকেই  এই ব্রত বা লোকাচারপালনের রীতি চালু রয়েছে। চলে কার্তিক সংক্রান্তি পর্যন্ত। আশ্বিন মাস জুড়ে দুর্গা পুজো, তার  পরেই লক্ষীপুজো, কালীপুজো চলে। আশ্বিনে লক্ষীর পুজো হয়ে থাকে। লক্ষ্মীর ব্রত হয় পৌষ মাসে।  আশ্বিন মাস পুজোর মাস।  কার্তিক মাসে ‘কুলকুলোতি’, অগ্রহায়ন মাসে নবান্ন, ইতু পুজো, পৌষ মাসে তুসু পুজো আর লক্ষীর ব্রত হয়। বাঙালির ঘরে ব্রত, আর পুজো অবশ্য সবই মিলে মিশে রয়েছে।  কার্তিক, অগ্রহায়ন আর পৌষ এই তিন মাস বাংলার গ্রামাঞ্চল উৎসবমুখর হয়ে থাকে। ছোট-বড় সকলেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যদিও সাধারণভাবে কুমারী ও সধবা মহিলারা এই উৎসবের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে শামিল হয়। কিন্তু তা’ সামগ্রিকভাবে সাধারণ মানুষদের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িয়ে  রয়েছে,। কুল প্রতিহত তুলসী তলায় গর্ত Read More …

Identity of Santhal within their Music and Dance form

Dr.  Saswati Sinha Babu. Assistant Professor, Saldiha College, Bankura, West Bengal 1 Santali language is the second highest speaking language in West Bengal. In India one of the six persons is Santal. But here my objective is not to discuss the Santali language. I think it is too important to locate the cultural origin and the life style of the Santal community. The Santali folk song is an important cultural theme of their community. It has saved with its own vitality from the unsafe cultural disturbs. These modest folk songs are the most valuable art of this community. They have not mislaid their culture though they are poor, suppressed and suffering from many aspects in the society. They understand that their culture is their identity and this identity will help them to take breath to live together. It should be noted that the Santal tribe community was never associate with the greater Hindu culture though Read More …