কমলাকান্তের জোবানবন্দী

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সেই আফিঙ্গখোর কমলাকান্তের অনেক দিন কোন সম্বাদ পাই নাই। অনেক সন্ধান করিয়াছিলাম, অকস্মাৎ সম্প্রতি একদিন তাহাকে ফৌজদারী আদালতে দেখিলাম। দেখি যে, ব্রাহ্মণ এক গাছতলায় বসিয়া, গাছের গুঁড়ি ঠেসান দিয়া, চক্ষু বুজিয়া ডাবায় তামাকু টানিতেছে। মনে করিলাম, আর কিছু না, ব্রাহ্মণ লোভে পড়িয়া কাহার ডিবিয়া হইতে আফিঙ্গ চুরি করিয়াছে-অন্য সামগ্রী কমলাকান্ত চুরি করিবেনা-ইহা নিশ্চিত জানি। নিকটে একজন কালোকোর্ত্তা কনষ্টেবলও দেখিলাম। আমি বড় দাঁড়াইলাম না-কি জানি যদি কমলাকান্ত জামিন হইতে বলে। তফাতে থাকিয়া দেখিতে লাগিলাম যে, কাণ্ডটা কি হয়।কিছুকাল পরে কমলাকান্তের ডাক হইল। তখন একজন কনষ্টেবল রুল ঘুরাইয়া তাহাকে সঙ্গে করিয়া এজ্লাসে লইয়া গেল। আমি পিছু পিছু গেলাম। দাঁড়াইয়া, দুই একটি কথা শুনিয়া ব্যাপারখানা বুঝিতে পারিলাম।এজ্লাসে, প্রথমত মাচানের উপর হাকিম বিরাজ করিতেছেন। হাকিমটি একজন দেশী ধর্ম্মাবতার-পদে ও গৌরবে ডিপুটি। কমলাকান্ত আসামী নহে-সাক্ষী। মোকদ্দমা গরুচুরি। ফরিয়াদি সেই প্রসন্ন গোয়ালিনী।কমলাকান্তকে সাক্ষীর কাটরায় পূরিয়া দিল। তখন কমলাকান্ত মৃদু মৃদু হাসিতে লাগিল। চাপরাশী ধমকাইল- “হাস কেন?”কমলাকান্ত যোড়হাত করিয়া বলিল. “বাবা, কার ক্ষেতে ধান খেয়েছি যে, আমাকে এর ভিতর পূরিলে?”চাপরাশী Read More …

তৈল

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৈল যে কি পদার্থ, তাহা সংস্কৃত কবিরা কতক বুঝিয়াছিলেন। তাঁহাদের মতে তৈলের অপর নাম স্নেহ। বাস্তবিকও স্নেহ ও তৈল একই পদার্থ। আমি তোমায় স্নেহ করি, তুমি আমায় স্নেহ কর অর্থাৎ আমরা পরস্পরকে তৈল দিয়া থাকি । স্নেহ কি? যাহা স্নিগ্ধ বা ঠান্ডা করে , তাহার নাম স্নেহ । তৈলের ন্যায় ঠাণ্ডা করিতে আর কিসে পারে ?সংস্কৃত কবিরা ঠিকই বুঝিয়াছিলেন। যেহেতু তাহারা সকল মনুষ্যকেই সমানরূপে স্নেহ করিতে বা তৈল প্রদান করিতে উপদেশ দিয়াছেন।বাস্তবিকই তৈল সর্বশক্তিমান; যাহা বলের অসাধ্য, যাহা বিদ্যার অসাধ্য , যাহা ধনের অসাধ্য, যাহা কৌশলের অসাধ্য,তাহা কেবল একমাত্র তৈল দ্ধারা সিদ্ধ হইতে পারে।যে সর্বশক্তিময় তৈল ব্যবহার করিতে জানে,সে সর্বশক্তিমান। তাহার কাছে জগতের সকল কাজই সোজা। তাহার চাকরির জন্য ভাবিতে হয় না — উকীলিতে পসার করিবার জন্য সময় নষ্ট করিতে হয় না , বিনা কাজে বসিয়া থাকিতে হয় না, কোন কাজেই শিক্ষানবিশ থাকিতে হয় না।যে তৈল দিতে পারিবে,তাহার বিদ্যা না থাকিলেও সে প্রফেসার হইতে পারে। আহাম্মুক হইলেও ম্যাজিষ্ট্রেট হইতে পারে, সাহস না থাকিলেও Read More …

The 1795-1833 Armed Mass Struggle of Landlords and Adivasis in Manbhum against British Colonial Rule

Pranab Kumar Mahato Abstract: This historical study delves into the largely overlooked but significant period between 1795 and 1833 when the landlords and Adivasis of Manbhum engaged in a formidable armed mass struggle against the British colonial forces. Fueled by a complex interplay of socio-economic grievances, cultural affronts, and the erosion of traditional land rights, this resistance movement unfolded in the rugged landscapes of Manbhum, leaving an indelible mark on the trajectory of anti-colonial struggles in India. Through an examination of primary sources and oral histories, this research aims to shed light on the motivations, strategies, and consequences of this resistance, highlighting the resilience and agency of the local population in their quest for autonomy and justice. The study contributes to a deeper understanding of the multifaceted nature of colonial resistance in India during a critical period in history.         মানভূমের জমিদার ও আদিবাসীদের ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র গণসংগ্রাম ১৭৯৫-১৮৩৩ প্রণব কুমার মাহাত, সিধো-কানহো-বীরশা বিশ্ববিদ্যালয়, পুরুলিয়া, Read More …

মহাজনী পদে মানবতা

নাজমুল হক ” যে খুঁজে মানুষে খুদা সেই তো বাউল বস্তুতে ঈশ্বর খুঁজে পাই তার উল পূর্ব জন্ম না মানে ধরা দেয় না অনুমানে মানুষ ভজে বর্তমানে হয় রে কবুল। বেদ তুলসী মালা টেপা এসব তারা বলে ধুঁকা শয়তানে দিয়ে ধাপ্পা করে ভুল মানুষে সকল মেলে দেখেশুনে বাউল বলে দীন দুদ্দু কি বলে লালন সাঁইজির কুল।‘[i]                                                    ——দুদ্দু শাহ ‘চুয়াডাঙ্গার সাধক-শিল্পী লতিফ শাহর কণ্ঠে শোনা এই গানটির রচয়িতা হলেন বাংলাদেশের ঝিনাইদহ অঞ্চলের বাউল সাধক দুদ্দু শাহ। উপর্যুক্ত সংগীতের বাণীতে ‘বাউল মত’ তথা বাউলতত্ত্বের মূলকথাটা অত্যন্ত সহজ-সরলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কেননা বাংলার বাউলদের মূল পরিচয়ের প্রধানতম একটি দিক হলো, তাঁরা মানুষেই স্রষ্টার সন্ধান করেন। দ্বিতীয় দিক হলো, তাঁরা প্রচলিত ধর্মগোষ্ঠীর লোকদের মতো অনুমানে বিশ্বাস করেন না, এমনকি পূর্বজন্ম বা জন্মান্তরবাদকে মানতে নারাজ; তৃতীয়ত বেদ তুলসী মালা টেপাকে তাঁরা ধোঁকার কাজ বলে গণ্য করেন। আসলে, প্রচলিত ধর্মীয় চেতনার বাইরে দাঁড়িয়ে বাংলার বাউল মত মূলত ‘মানুষে সকল মেলে’- এই তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে।‘[ii] লালন সাঁইজির প্রথমদিকের ভাব শিষ্য দুদ্দু শাহ -র  Read More …