Year: 2020
রাঢ় অঞ্চলের সংগীত সংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের কথা
ডঃ সোমা দাস মণ্ডল রাঢ় অঞ্চলের সংগীত সংস্কৃতিকে জানার জন্য এই এলাকার মানুষকে ও তাদের কর্মধারা, জীবিকা ইত্যাদি সম্বন্ধে জানা প্রয়ােজন। এই এলাকার প্রাকৃতিক গঠন, রুক্ষতা, নদী, বৃক্ষলতা ইত্যাদি সম্বন্ধেও জানা দরকার। এই অঞ্চলের মানুষদের মধ্যেকার জীবিকা নির্ভর করে ভূপ্রকৃতি ও ভৌগােলিক গঠনের উপর। এখানকার কাকুরে মাটি, খনি, বনাঞ্চলের সম্পদকে নিয়েই এদের সুখ দুঃখ। বিহার, ঝাড়গ্রাম থেকে বহু মানুষ এখানে আসে। আবার দীর্ঘকাল ধরে আদিবাসীরাও এখানে বসবাস করে চলেছে। সব কিছুর মধ্যেই এক মিশ্র সংস্কৃতির নানা প্রভাব পড়েছে এখানকার লােকগানে। এখানকার গানে এই রুক্ষতার কথা, খনি অঞ্চলের কথা নানাভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাচীন বঙ্গের অন্যতম অংশ হল রাঢ়। এর ভৌগােলিক অবস্থান নির্ণয় করতে হলে বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থ ও কিছুটা অনুমানের উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বিষয়টি বেশ বিতর্কমূলক ও জটিল। দীর্ঘকাল পরে পণ্ডিতগণ এই বিষয়ে নানা মত প্রকাশ করেছেন। রমেশচন্দ্র মজুমদার সাধারণভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রবাহিত গঙ্গায় পশ্চিম ও দক্ষিণাংশ রাঢ়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে মনে করেন। তাঁর মতে দক্ষিণে দামােদর এবং সম্ভবত’ রূপনারায়ণ Read More …
Tagore’s Vision of a Transformed Society
Soma Mondal, Assistant Professor, Department of English, Ramananda College [Abstract: Tagore had an immense love for humanity. Relationship and love were the keywords in his philosophy of life. If Nationalism implies a political organization with its limitations of fixed boundaries, including maps and the mind’s constraints, Tagore envisioned a society and a world free from boundaries and the narrowness of mind. Tagore says that the abstract concept Nation dehumanizes Man, and turns him into a machine, making him forget the higher idles of humanity. Tagore gives more importance to the heart and the relationship between human beings than a heap of things or systems and policies. In Rabindranath’s views the only goal of human life is to offer freedom and be free, that freedom which guides our life. Rabindranath’s lecture, essays and addresses, thus, reveal his vision of the supreme man who will attain spiritual heights, overcoming all the differences. Read More …
গানের সূত্রে নাট্যের মালা’ এবং নাট্যের সূত্রে গানের মালা’ : একটি সমীক্ষা
ডঃ ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, ভার প্রাপ্ত অধ্যক্ষ, পদ্মজা নাইডু কলেজ অফ মিউজিক বর্ধমান (এক) তিনটি গীতিনাট্য বাল্মীকি-প্রতিভা, ‘কালমৃগয়া এবং মায়ার খেলা সম্পর্কে আমার এই আলোচনা। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের পড়তে হয় গানের সূত্রে নাট্যের মালা ও নাট্যের সূত্রে গানের মালা সম্বন্ধে। আলোচ্য তিনটি গীতিনাট্যের কোনটিতে নাটক হচ্ছে সূত্র এবং গান হচ্ছে মালা, আবার কোনটিতে গান হচ্ছে সূত্র এবং নাটক হচ্ছে মালা। বর্তমান কালের পরীক্ষার্থীরাও একই বিভ্রমে বিভ্রান্ত, কলম ধরা ডান হাত গালে দিয়ে ভাবতে বসে, উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে হয়ে যাবে না তাে! এই বিভ্রান্তি আসে কবিরই আলঙ্কারিক ভাষাকে ভালোভাবে বুঝতে না পারার জন্য। জ্যোতিরিন্দ্রনাথের পিয়ানোর সুর ঝঙ্কার কে অবলম্বন করে, তরুণ রবীন্দ্রনাথ এবং অংশত অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী বাল্মীকি-প্রতিভার গানগুলো রচনা করেন। নাট্য ও সংগীতের অভিনয়, সংযোজন, বিয়োজন চলেছে বেশ কিছু দিন। বছরখানেক পর, ঐ একই আদলে রবীন্দ্রনাথ রচনা করলেন কালমৃগয়া। তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ২১ বছর। বাড়তি যোগ হােলাে আপন কল্পনায় বনদেবতা ও বনদেবী নৃত্যগীত। পাঠকবৃন্দ সবাই জানেন রামায়ণ উভয় গীতিনাট্যেরই Read More …
রবীন্দ্র ভাবাদর্শে রবীন্দ্র ভাবনৃত্য
চন্দ্রাবলী ঘােষাল গবেষক, সঙ্গীত ভবন, রবীন্দ্র সঙ্গীত নৃত্যনাট্য বিভাগ, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে বড় হয়ে উঠেছেন এমন মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষের মধ্যে আশ্রম কন্যা অমিতা সেন অন্যতম। তার আশ্রম জীবনের স্মৃতিকথা শান্তিনিকেতনে আশ্রম কন্যা গ্রন্থে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেছেন তার নৃত্য সম্বন্ধে নিজস্ব গভীর অনুভূতির কথা। তার লেখনীতে ফুটে উঠেছে তার অনুভূতির কথা। তিনি বলেছেন “ভাব নৃত্য রবীন্দ্রনাথের অভিনব মর্মস্পর্শী এক সৃজন। মনের ভাবটি যেমন তিনি তার গানের সুরে বইয়ে দিলেন, তেমনি তার হৃদয়ের আনন্দ-বেদনা ফুটিয়ে তুললেন নৃত্যের ছন্দে। আমাদের দেশে সংকীর্তন নৃত্যে, বাউল নৃত্যে প্রেম ও ভক্তির বন্যা বয়ে চলেছে বহুকাল ধরে। সেই ধারায় রবীন্দ্রনাথের অন্তরের রসলীলা রূপ পেল তার ছন্দে। তার নৃত্যদোলায় ঝরে পড়ে বর্ষার ধারা, বসন্তে ফুটে ওঠে পুষ্পকলি, নব কিশলয়ে লাগে হিল্লোল, শুকনােপাতা ছড়িয়ে পড়ে, কোন দূরে দূরে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে আনন্দ, মনের বেদনা ওঠে বেজে। অপূর্ব ভাব নৃত্য তার। যাৱা না দেখেছেন তাদের বােঝানোর ক্ষমতা নেই, আমার ভাষা যোগাবে না।”।[১] এই ভাব নৃত্য তিনিই Read More …
Energy Embodiment of Indian Classical Dance
Nrityachuramani Sri Rahul Dev Mondal (Assistant Professor of Rabindra Bharati University, Department Of Dance) Dance is a celebration of Divine Energy and recognition of its presence in all other beings. It is an expression of reverence towards the goodwill that naturally emanates from each soul.Bharatnatyam , one of India’s classical dance forms, traces its origin to the Natya Shastra. Shiva, the lord of dance and a consummate yogi, sent his disciple Tandu to reveal the secrets of this lyrical and graceful form to Bharat Muni, who subsequently wrote the Natya Shastra. Nataraja represents Shiva performing the vigorous ananda tandava or dance of Creation. The idea of the universe as a dance of dynamic energy and all life as its manifestation is convincingly captured even in a bronze figurine of Nataraja. Odissi may be likened to prayer. The Natya Shastra prescribes a format to begin your performance in an auspicious manner. Read More …
ভারতীয় সঙ্গীতে আন্তর্জাতিক চেতনা
দেবাশিস মণ্ডল আটের দশক থেকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে এবং তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বহুজাতিক সংস্থাগুলো উঠে পড়ে লেগেছিল। তারই ফলশ্রুতিতে অনেকটা চাপে পড়ে ভারতকে বিশ্বয়ানের চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। মূলতঃ ইউরোপ ও আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলো নিজেদের কতৃত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তির জন্য তৃতীয় বিশ্বের জনবহুল দেশগুলোর বাজারকে দখল করার উদ্দেশ্যে সফল হয়েছে বিশ্বায়নের মধ্যদিয়ে। বিশ্বায়নের চুক্তির সময় ছোট ছোট ও মাঝারি শিল্পের মালিকরা ভয় পেয়েছিল নিজেদের অস্তিত্বের কথা ভেবে। এতদ সত্বেও কেউ কেউ বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার মধ্যে সম্ভাবনার কথা ভেবেছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন ‘..তাই আমরা মনে করছি : বিশ্বায়নকে ঘিরে গত পৃথিবীর কম উন্নত দেশগুলোর সামনে যতোনা অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক,রাজনৈতিক এবং সামাজিক তারথেকে বেশি বড় বিপদ মানুষের চিন্তা-চেতনাগত দীনতায়. মানুষের জে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর, যে প্রতিবাদী মনন সমাজ বিকাশের ধারা সুনিশ্চিত করেছে, তা যদি ভোতা হয়ে যায় তা হলে মানব জাতির সামনে সবচেয়ে বড় বিপদ সূচিত করে.’ (কর ২০০৩) [i] বিপদ Read More …
শান্তিনিকেতনের নৃত্য ধারায় গুরু কে. যতীন্দ্র সিংহের অবদান
তন্ময় পাল, এম ফিল গবেষক, বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতন ভারতীয় সংস্কৃতির আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষএ হল নৃত্য, শুধু বিনোদোয়ই নয়, ঈশ্বর সাধনা, আত্ম-উপলব্ধি সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গা-আঙ্গিক ভাবে যুক্ত নৃত্য। ভারতীয় নৃত্যের দিকে তাকালে এক উজ্জ্বল রঙিন রূপ আমরা দেখতে পায়। প্রাচীন কাল থেকেই নৃত্য চর্চা ও প্রদর্শনের কথা আমরা পায় বিভিন্ন পূরাণ ও মহাকাব্যে। নৃত্যের সঙ্গে সঙ্গে নৃত্যশিল্পীর পোশাক-অলংকার ও সাজসজ্জার প্রভৃত বর্ণনা থেকে সেযুগের নৃত্য সম্পর্কে ধারনা পায়। বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের আঞ্চলিক পোশাক ও রূপসজ্জা তাদের নিজস্বতা ও নান্দনিকতাকে প্রকাশ করে। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নৃত্য ছিল সাধারন ব্যাপার।তার ধার এবং এক সুনির্দ্দষ্ট রূপ ও ছিল কিছু তা সংরক্ষন ও নবীনিকরন হয় নি কখনও। বিদেশেও সামাজিক অনুষ্ঠানে যুবক-যুবতি দের দ্বৈত নাচের কথা পায়। যা পরবর্তিতে ‘বলরুম- ডান্সিং’ নামে প্রচলিত। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ও ধর্মিয় অনুষ্ঠানে নাচের ভূমিকা ছিল অনেকখানি যা এখন ও অনেকখানি বর্তমান। এই ধর্মীয় নাচগুলি সংরক্ষন ও নবীনিকরনের মাধ্যমে মঞ্চ-পরিবেশনের ভাবনা আনেন কিছু মহৎ ব্যক্তি। সেই ভাবেই দাসিআট্টাম Read More …
বাংলায় স্ত্রী-শিক্ষা আন্দোলন ও নারীদের বন্ধন মুক্তির সূচনা
জয়ন্তী মণ্ডল বহুকাল ধরে সামন্ত প্রভু, জমিদার ও রাজাদের শাসন ভারতবর্ষকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছিল। এক শ্রেনীর মানুষের বিশাল বৈভবের মধ্যে কোন বিরাম ছিলনা। অন্যদিকে দেশের অধিকাংশ মানুষ হত-দরিদ্রভাবে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছিল। উচ্চবিত্ত থেকে বিত্তহীন সব স্তরের মানুষের মধ্যেই নারীজাতির উপর অত্যাচার অনাচারের সীমা পরিসীমা ছিলনা। কন্যা সন্তানকে মাতৃরূপে নয়- ভোগ, সন্তান ধারণ ও লালন পালনের জন্যই বড়ো করে তোলা হত। শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে, শাস্ত্রের ব্যাখ্যা অপব্যাখ্যা করে পুরুষ শাসিত সমাজ নিজেদের মতো করে ব্যবহার করত নারীদের। বিশেষকরে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবারের নারীদের উপর অত্যাচার চরমে উঠেছিল। নারীদের এহেন অত্যাচারের মধ্যেও পরিত্রাণের কোন উপায় ছিলনা। কোন পুরুষ বা ধর্মগুরু কিংবা পণ্ডিত কেউই নারীদের মুক্তির জন্য চিৎকার করেছে বলে শোনা যায়নি। ছোটবেলা থেকেই রূপকথার গল্পেও শোনাগেছে পুরুষদের বীরত্ব। অর্ধেক রাজত্ব ও রাজকন্যাদানের মধ্যে রাজকন্যার কোন স্বাধীন সত্ত্বা ছিলনা। খুব সুন্দরী রাজকন্যা হয়তো স্বয়ম্বর সভায় নিজের বর পছন্দকরে তাঁর গলায় বরমাল্য পরাতে পারত। কিন্তু সেই রাজকুমারের কোন গুন দোষ জানার Read More …
শাস্ত্রীয় মণিপুরী নৃত্যের নির্মিতি এবং ব্যাপ্তিতে বিংশ শতাব্দীর “ত্রিমূর্তি” গুরুর ভূমিকা
তানিয়া চক্রবর্ত্তী, গবেষক, সংগীত ভবন, শান্তিনিকেতন, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের উত্তরপূর্ব দিকে আসাম ও ব্রহ্মদেশের সীমান্তে পাহাড় ঘেরা ছোট্ট রাজ্য মণিপুর। রাজ্যের নাম অনুযায়ী এখানকার নৃত্য ভঙ্গিমার নাম “মণিপুরী” – যা ভারতের অন্যান্য শাস্ত্রীয় নৃত্য শৈলীগুলির মধ্যে অন্যতম এবং প্রাচীন। “এই নৃত্য, তালের কঠোর বন্ধন ও সাহিত্যের সীমিত ক্ষেত্রে আবদ্ধ ও অপেক্ষাকৃত মুক্ত নৃত্য। নৃত্যের নমনীয়তা এবং অন্তর্নিহিত ভক্তিরসই মণিপুরী নৃত্যের প্রধান উপজীব্য। অর্থাৎ সমগ্র শিল্পটিই সারল্যের দ্বারা মণ্ডিত” [১] । মণিপুরী নৃত্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জানতে হলে মণিপুরীদের সংস্কৃতি, ইতিহাস, সাহিত্য ও পুরাণ সম্পর্কে কিছু জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। দেশে-বিদেশে সমাদৃত মণিপুরী নৃত্য – যা ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু পুরাণ, ইতিহাস কিংবদন্তি এবং যুগযুগ ধরে মণিপুরীদের বহমান জীবনধারার কথা। মণিপুরে প্রাক হিন্দু যুগের সংস্কৃতির সঙ্গে সংমিশ্রণ ঘটেছে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মীয় সংস্কৃতির। সনাতন ধর্মের পূর্বের সময়ের লাই-হারাওবা নৃত্য থেকে মুদ্রা, তাল, লয় আহরিত হয়েছে বৈষ্ণব ধর্ম প্রভাবিত মণিপুরের রাসনৃত্যে। “সৌন্দর্যের লীলাভূমি ভারত-ব্রহ্ম সীমান্তে অবস্থিত ক্ষুদ্র Read More …