দ্রোহকাল- দেবাশিস মণ্ডল

সময়টাকে নাম দেয়া হয়েছে দ্রোহকাল। আর জি কর এখন শুধু একটি হসপিটাল নয় একটি আন্দোলনের অভিমুখ বা কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ  থেকে সারা দেশ এবং সারা পৃথিবীতে পরিচিত নাম। আন্দোলনটা শুধুমাত্র একজন চিকিৎসকের হত্যা ধর্ষণ অত্যাচারের ঘটনা নয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরজি কর হাসপাতালের পরিসর ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভী একশ্রেণীর অমানুষদের বৃহৎ ষড়যন্ত্রকারী ব্যবস্থা। হিংস্র দানবীয় ক্ষমতার অধিকারী,  অর্থলোভী মানুষদের যে সিন্ডিকেট, তার বিরুদ্ধে চিকিৎসক ও সর্বসাধারণের এক তীব্র ধিক্কার আন্দোলন। সেখানে এই সরকারের একনায়কতন্ত্র কায়েম করার জন্য চিকিৎসকদের মধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে গভীর কদর্যতা হিংস্রতা এবং অর্থ উপার্জনের এক চরম ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। যা হাসপাতালের ভিতরকার সুচিকিৎসক ছাত্র, নার্স, কর্মী বাহিনী সবার কাছেই স্পষ্ট থানার সমস্ত অফিসাররাই তা জানেন, রাজনৈতিক নেতারা এখানে দিনে দুপুরে রাতে সব সময় অবাধ বিচরণ করার অধিকার নিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। আর সমস্ত ব্যবস্থাটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য রাজ্যের প্রধান ক্ষমতাধর যে মানুষটি তিনি তার ক্ষমতাকে সেভাবেই নিয়ন্ত্রণ করার Read More …

পোক্ত খেলোয়াড়

   প্রত্যয়ী মল্লিক পাইনি তো সে বিচার এখনো পঞ্চাশ দিন তো প্রায় সম্পূর্ণ, সবার ঘরে হাজার টাকা দিয়ে  করছো চুরির ফন্দি ?  লজ্জা হয়নি তোমার এখনো পার করে নিজের গণ্ডি?  তুমি আবার নাকি রাজ্য শাসক  মূর্খদের মন্ত্রী!  তোমার জন্য বাড়ছে ধর্ষক, মজুরি না পেয়ে মরছে কৃষক, দশ লক্ষ ? মানুষ তুমি ? আড়াল করো নির্যাতক ? চাইছো তুমি বিচার আবার!   পোক্ত খেলোয়াড়  

কখন যেন

শংকর কুশারী সবার চোখের অলক্ষ্যে, সবার অজান্তে,  কখন যেন মরে গেলো মেয়েটা  মেয়েটা অমলকান্তি হতে চেয়েছিলো, অমলকান্তির মতো রোদ্দুর হতে চেয়েছিলো ।  মেঘেদের সাথে লড়াই করে  রোদ্দুর ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলো  এই বন্ধ্যা জমির বুকে ।  রোদ্দুরে ভরিয়ে দিতে চেয়েছিলো  আকাশের সুনীল ক্যানভাস । বাঁচতে চেয়েছিলো, বাঁচাতে চেয়েছিলো  এই সবুজ পৃথিবীটাকে ।  লড়াই করতে করতে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত শরীরটা  দুমড়ে মুচড়ে গেছিলো অসহ্য যন্ত্রণায়।  প্রাণপণ লড়াইয়ের শেষে  তার নিস্পন্দ শরীরটা পড়ে রইলো অনাদরে  তার বড়ো সাধের সাধনাস্থলের এক কোনে ।  মরে গেলো মেয়েটা । সুদূর নীহারিকা মন্ডলের গোপন কুলুঙ্গিতে থেকে গেলো শুধু শেষ কটা কথা … “রাতের খাওয়াটা এবারে খেয়ে নাও মা,  আর দেরি কোরো না .. বাপিকে বোলো  সুগারের ওষুধটা যেন ভুলে না যায়” … মেয়েটা, আমাদের মেয়েটা শেষমেশ মরেই গেলো । এবং  তার চিতাভস্ম থেকে জন্ম নিলো  এক অবশ্যম্ভাবী অনাবিল অনন্ত দ্রোহকাল ।

নাই কেন আত্মগ্লানি?

প্রত্যয়ী মল্লিক ভেবেছিলাম,   ঘরের মেয়ে করে আনবো তোমায়,  কিন্তু তাদের যে আজ ভারি বিপদ! জানতো না সেই ছোট্ট মেয়েটি,  আত্মরক্ষাই একমাত্র সম্পদ। লজ্জা, ঘৃণা, ভয়, প্রভৃতির  ঊর্ধ্বে তো মা ওরা!  অবোধ শিশু থেকে সবোধ বৃদ্ধা  সবাই যে ওদের ক্রীড়া! ধর্ষণ আজ সেজেছে মাগো  আত্মহত্যার ছলে!  তাই কালের ঘরের কালী হয়ে  এসো তুমি যুগের বদলে। ধর্ষকদের লোকাবে বলে  মত্ত হয়েছে মহারানী! তিলোত্তমার বিচারহীনতায়  নাই কেন তার আত্মগ্লানি?