জোড়াসাঁকো : হারিয়ে যাওয়া দক্ষিণের বারান্দা
জয়ন্তী মণ্ডল পাঁচ নন্বর জোড়সাঁকো ঠাকুরবাড়ির বৈঠকখানার দক্ষিণের বারান্দা। কালো ডোরাকাটা লাল মেঝে। আরামকেদারায় বসে দুই ভাই। গিরীন্দ্রপুত্র গণেন্দ্রনাথ ও গুনেন্দ্রনাথ। গগনেন্দ্রনাথ লেখায় ব্যস্ত। কখনো নাটক, কখনো গান। গুনেন্দ্রনাথ তখন মগ্ন ছবি আঁকায়। দুজনের সাধনায় রচিত হল স্বদেশ প্রীতির প্রথম গান ও কবিতা। সেই সঙ্গে জন্ম নিল নবযুগের শিল্পরূপটি। বৈঠকখানা বাড়ির দোতলায় স্টেজ বাঁধা। বালক রবির গণদাদা রামনারায়ণ তর্করত্নকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন ‘নবনাটক’। বাড়ির বড়দাদা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়বর্গ মিলে দিনের বেলায় চলছে ‘নবনাটকে’র রিহার্সাল। রাতে কনসার্টের মহড়া। সন্ধ্যে বেলায় দোতলার দক্ষিণের বারান্দায় নাটক হবে। সন্ধে থেকে সারা বাড়ি আলোয় আলোকময়। বাড়ির সদর দরজায় সারিসারি গাড়ির আনাগোনা। অতিথিরা এক এক করে গাড়ি থেকে নামছেন। বাড়ির অগ্রজেরা ব্যস্ত অতিথি অভ্যর্থনায়। একটুখানি তফাতে ছ’নম্বর বাড়ি। দু’বাড়ির বারান্দায় ফাঁক শুধু একটু। পাঁচ নম্বর বাড়ির আমোদ অনুষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে ছ’নম্বর বাড়ির শিশু কিশোরেরা। বড়োদের এই আমোদ অনুষ্ঠানে ছোটদের প্রবেশ মানা। এদিকের বারান্দায় উপচেপড়া হাসি, ঠাট্টা, অক্ষয় চৌধুরীর উদ্দাম নৃত্য, পুরুষের কণ্ঠে মেয়েলি কান্নার সুরটুকুর ভাগীদার হতে ঝুঁকে পড়ে মরিয়া ছ’নম্বর Read More …