বাঁশির সুরমাধুর্যে গৌর গোস্বামী ও সানাইয়ের সুরমূর্চ্ছনায় আলি আহমেদ: যন্ত্রবাদনের দুই দিকপাল – ভবানীশঙ্কর দাশগুপ্ত

Abstract (সংক্ষিপ্তসার):এই প্রবন্ধে ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে দুই অনন্য যন্ত্রশিল্পী—বাঁশির গৌর গোস্বামী এবং সানাইয়ের আলি আহমেদ হোসেন—এর সঙ্গীত জীবন, শিল্পসাধনা এবং প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। বাঁশির মৃদু সুর ও রাগভাষার সূক্ষ্মতাকে তুলে ধরতে গৌর গোস্বামী যেভাবে মাইহর ঘরানার ধারায় রাগসঙ্গীত পরিবেশন করেছেন, তা একাধারে আবেগপূর্ণ ও কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে নিখুঁত। অন্যদিকে, ঐতিহ্যগতভাবে লোকজ অনুষ্ঠানসমূহে ব্যবহৃত সানাইকে ধ্রুপদী রাগসঙ্গীতের এক গম্ভীর ও রসনীয় যন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আলি আহমেদ। প্রবন্ধে স্মৃতিকথার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে তাঁদের পরিবেশনা, ব্যক্তিগত জীবন, ও অপ্রতিষ্ঠানিক অবদান—যার অনেকটাই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির বাইরে থেকে গেছে। গৌর গোস্বামী ও আলি আহমেদ উভয়েই সঙ্গীতকে উপার্জনের মাধ্যমের চেয়ে বেশি এক সাধনার ক্ষেত্র হিসেবে দেখেছেন এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাঁদের উত্তরাধিকার রক্ষা করেছেন। তাঁদের সংগীতজীবনের প্রতিভা ও নিষ্ঠা সত্ত্বেও যথোচিত স্বীকৃতি না পাওয়ার পেছনে সঙ্গীত জগতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আঞ্চলিক পক্ষপাতিত্ব ও সামাজিক কাঠামোর প্রভাবও আলোচিত হয়েছে। এই প্রবন্ধ দুই যন্ত্রবাদকের শিল্পসাধনার পাশাপাশি তাঁদের প্রতি প্রজন্মের ঋণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। Read More …

একক মণিপুরী নৃত্যের বিবর্তন ও সমসাময়িক অবস্থান – ড.রিঙ্কি মাহাতো

  সংক্ষিপ্তসার (Abstract) এই নৃত্য বিষয় আলোচনা করার কারন হেতু বলা যেতে পারে পূর্বে মণিপুরী নৃত্যে বিক্ষিপ্ত ভাবে একক নৃত্য দেখতে পেয়েছি। এই সকল নৃত্যই মূলত দলগত ভাবে করা হয়। কিন্তু পরবর্তী কালে যখন গুরুরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী মন্দির প্রাঙ্গণে হওয়া নৃত্যগুলি সম্পর্কে বাইরের জগতে বহিঃপ্রকাশ করতে চাইলে সেক্ষেত্রে গুরুরা এই সকল নৃত্য থেকে কিছু কিছু অঙ্গ ভঙ্গী, হস্ত সঞ্চালন, অঙ্গ সঞ্চালন আলাদা করে, বা কোন নৃত্য থেকে গল্প নিয়ে সেটিকে নৃত্য নাট্যে রূপ দিয়ে বহির্জগতে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। প্রথমেই বলা হয়েছে মণিপুরীরা যে কোন অনুষ্ঠান দেবতার উদ্দেশ্যেই করে থাকেন, তাই দেবতাকে রুষ্ট করে কোন কার্য তারা করেন না। মণিপুরী নৃত্য বহির্জগতে প্রকাশ্যে আনার জন্য গুরুজী রাসকে ছোট করে পরিবেশন করেছেন, কিন্তু কোন ভাবেই এর অন্তর্নিহিত ভাবকে ক্ষুণ্ণ করেননি, সেটি পরম্পরাগত ভাবে বজায় রেখেই করা হয়েছিল। বিবর্তন হওয়া অপরিহার্য। তাই কাল-ক্রমের সাথে সাথে গুরুরা মণিপুরী একক নৃত্যের বিবর্তনের দিকেও নজর দিয়েছেন, আর সেই কর্মে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন মাইস্নাম গুরু অমুবী সিংহের কাছে Read More …

Historical Discourse of Music in Bengali Literature-Dr. Amrita

Abstract The historical discourse of music in Bengali literature traces the evolution of musical traditions from the early medieval period to the modern era. Beginning with the Charyapada, the earliest known Bengali literature, this study explores the deep connection between music and literary expression in Bengal. The influence of Buddhist Sahajiya traditions, the emergence of Vaishnava Padavali, and the contributions of poets such as Jayadeva and Baru Chandidas highlight the synthesis of devotional themes with musical forms. The paper also examines the impact of the Pala and Sen dynasties on court music and the subsequent integration of North Indian classical ragas into Bengali music. Furthermore, it discusses the significance of Mangalkavya, Gitagovinda, and Shrikrishna Kirtan in shaping Bengal’s lyrical traditions. The research underscores the continuity of musical heritage, culminating in the works of Rabindranath Tagore, who fused medieval and modern elements. Through historical references and textual analysis, this paper provides Read More …

বাংলার শক্তি সাধনা ও বাঙালির শাক্তগীতি – তমাল দাস

গবেষক, কণ্ঠসংগীত বিভাগ, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাগান বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয়কে বহন করে। সুদীর্ঘ এক হাজার বছর ধরে বাংলা ভাষার সাথে সুর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এই এক হাজার বছর ধরে একটি সুদীর্ঘ অঞ্চলের মানুষের মনের ভাব সুরের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার দরুন বাংলাগান সুর-ভাব-কথার বিচিত্রতায় বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়েছে। এতে বাংলা গানের সম্ভার ঐশ্বর্যমণ্ডিত হয়েছে। বাংলাগানের বিভিন্ন ধারার মধ্যে ‘পদাবলী গান’ একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সংগীত। এই পদাবলী গানের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী একে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রথমটি হলো ‘বৈষ্ণব পদাবলী’ যা বাংলাভাষার মধ্যযুগের সূচনায় রচিত হতে শুরু করে। আর দ্বিতীয়টি হল ‘শাক্ত পদাবলী’, যা মধ্যযুগের অন্তিম পর্যায়ে রচিত হতে শুরু করে। ‘পদাবলী’ সংগীতের দুটি ধারাই ভক্তিভাবে আধ্যাত্মিকতায় পূর্ণ। এদের মধ্যে শাক্তগীতিগুলি রচনার দিক থেকে বৈষ্ণব পদাবলীর তুলনায় নবীন। প্রধানত মাতৃশক্তির বন্দনার উদ্দেশ্যে শাক্তপদগুলি রচিত হয়। শাক্তপদগুলি ভাবে-ভক্তিতে, স্নেহে-বাৎসল্যে এমনভাবে পরিপূর্ণ হয়েছে যে বাংলার আপামর জনমানসে এগুলি চিরস্থায়ী হয়ে গেছে। শাক্তপদাবলীর প্রচার ও প্রসার শুরু হতে থাকে সাধক কবি শ্রী রামপ্রসাদ সেনের হাত ধরে। এরপর আরেকজন Read More …

বর্তমান সময়ে বঙ্গে মণিপুরী নৃত্যচর্চার অবস্থান : সমস্যা ও বিশ্লেষণ – তন্ময় পাল

গবেষক, মণিপুরি নৃত্য রবীন্দ্রসঙ্গীত, নৃত্য ও নাটক বিভাগ, সঙ্গীত ভবন, বিশ্বভারতী ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের মধ্যে অন্যতম একটি শাস্ত্রীয় নৃত্য হল মণিপুরী নৃত্য যার জন্ম উত্তর- পূর্ব ভারতের একটি ছোট্ট রাজ্য মণিপুরে। শাস্ত্রীয় মণিপুরী নৃত্যের সৃষ্টি হওয়ার পিছনে যে দুটি প্রধান উপাদান কাজ করেছিল তার প্রথমটি হল ধর্ম এবং হল দ্বিতীয়টি সাহিত্য এই দুটি ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ তথা বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের মণিপুরে আগমনের পর মৈতৈ১ সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছিল, যুক্ত হয়েছিল দুটি প্রধান বিষয় রাসলীলা ও সংকীর্তন, যা ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রেখেছে। একটা সময় পর্যন্ত মণিপুরী নৃত্য শুধুমাত্র ভক্তি বা উপাসনার অঙ্গ হিসাবে পরিবেশিত হয়ে এসেছে তা কোন অর্থে বিনোদনের জন্য ছিল না। যদিও ভারতীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিন্তু ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে বেশ কিছুটা দূরত্বে অবস্থানের জন্য ভারতের বাকি অংশ তথা বিশ্বের মানুষের কাছে মণিপুরী নৃত্য মণিপুরী সংস্কৃতি বহুল প্রচলিত ছিল না। পরবর্তীতে গুরুদেব শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে মণিপুরী নৃত্য বিশ্ব দরবারে পৌঁছায়। এক্ষেত্রে বিশেষ Read More …

বাঙ্গালার ইতিহাস -ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

প্রথম অধ্যায়: ১৭৫৬ খৃষ্টীয় অব্দের ১০ ই এপ্রিল, সিরাজউদ্দৌলা বাঙ্গালা ও বিহারের সিংহাসনে অধিরূঢ় হইলেন। তৎকালে দিল্লীর সম্রাট্ এমত দুরবস্থায় পড়িয়ছিলেন যে নূতন নবাব আর তাহার নিকট সনন্দ প্রার্থনা করা আবশ্যক বোধ করিলেন না।  তিনি, রাজ্যাধিকার প্রাপ্ত হইয়া, প্রথমতঃ আপন পিতৃব্যপত্নীর সমুদায় সম্পত্তি হরণ করিবার নিমিত্ত, সৈন্য প্রেরণ করেন। তাঁহার পিতৃব্য নিবাইশ মহমদ, ষোল বৎসর ঢাকার রাজত্ব করিয়া, অপরিমিত অর্থ সঞ্চয় করিয়াছিলেন। পরে, তিনি লোকান্তর প্রাপ্ত হইলে, তাঁহার পত্নী তদীয় সমস্ত ধনের উত্তরাধিকারিণী হয়েন। ঐ বিধবা নারী, আপন সম্পত্তি রক্ষার নিমিত্ত, যে সৈন্য রাখিয়াছিলেন তাহারা কার্য্য কালে পলায়ন করিল। সুতরাং উহার সমুদায় ঐশ্বর্য্য নির্ব্বিবাদে নবাবের প্রাসাদে প্রেরিত হইল; এবং তিনিও সহজেই আপন বাসস্থান হইতে বহিষ্কৃতা হইলেন।  রাজবল্লভ ঢাকায় নিবাইশ মহমদের সহকারী ছিলেন এবং, যবন রাজাদিগের অধিকার সময়ের প্রথা অনুসারে, প্রজার সর্ব্বনাশ করিয়া অনেক ধন সঞ্চয় কবেন। তিনি ঐ সময়ে মুরশিদাবাদে উপস্থিত থাকাতে, সিরাজউদ্দৌলা, তাঁহাকে কারাগারে বদ্ধ করিয়া, তদীয় সমুদায় সম্পত্তি রুদ্ধ করিবার নিমিত্ত ঢাকায় লোক প্রেরণ করিলেন। কিন্তু রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস, Read More …

শিল্পে অনধিকার-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  আজ থেকে প্রায় ১৫ বৎসর আগে আমার গুরু আর আমি দুজনে মিলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কোণে শিল্পের একটা খেলাঘর কল্পনা করেছিলেম। আজ এইখানে যাঁরা আমার গুরুজন ও নমস্য এবং যাঁরা আমার সুহৃদ্ এবং আদরণীয়, তাঁরা মিলে আমার কল্পনার জিনিষকে রূপ দিয়ে যথার্থই আমায় চিরদিনের মতো কৃতজ্ঞতার ঋণে আবদ্ধ করেছেন। আমার কতকালের স্বপ্ন সত্য হয়ে উঠেছে—আজ সন্ধ্যায়। কেবল সেদিনের কল্পনার সঙ্গে আজকের সত্যিকার জিনিষটার মধ্যে একটি বিষয়ে অমিল দেখ্‌ছি—সেটা এই সভায় আমার স্থান নিয়ে। সেদিন ছিলেম আমি দর্শকের মধ্যে,—প্রদর্শক কিম্বা বক্তার আসনে নয়। তাই এক-একবার মনে হচ্ছে আজকেরটাই বুঝি দরিদ্রের স্বপ্নের মতো একটা ঘটনা—হঠাৎ মিলিয়ে যেতেও পারে।  কিন্তু স্বপ্নই হোক্ আর সত্যই হোক্, এরি আনন্দ আমাকে নূতন উৎসাহে দিনের পর দিন কাজ করতে চালিয়ে নেবে—যতক্ষণ আমার কাজ করার এবং বক্তৃতা দেবার শক্তি থাকবে। যোগ সাধন করতে হয় শুনেছি চোখ বুজে, শ্বাসপ্রশ্বাস দমন করে; কিন্তু শিল্প-সাধনার প্রকার অন্য প্রকার—চোখ খুলেই রাখতে হয়, প্রাণকে জাগ্রত রাখতে হয়, মনকে পিঞ্জর-খোলা পাখীর মতো মুক্তি দিতে Read More …

জাতি ভেদ -শিবনাথ শাস্ত্রী

কিরূপে জাতিভেদ প্রথার সৃষ্টি হইল? ইহার প্রমাণ সকল আমরা কোথা হইতে সংগ্রহ করিব? যাহাকে বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাস বলে, যাহাতে অতীতকালের ইতিবৃত্ত যথাযথরূপে বর্ণিত হইয়াছে, সংস্কৃত ভাষাতে এরূপ গ্রন্থ বিরল; যে কিছু ইতিবৃত্তমূলক গ্রন্থ আছে, তাহাও কবির কল্পনা দূষিত; সে সকলকে অতীতের ইতিবৃত্ত বলিয়া গ্রহণ করা দুষ্কর। এরূপ স্থলে উপায় কি? আমরা একটু চিন্তা করিলেই দেখিতে পাইব যে একটী জাতির সাহিত্য, কাব্য, নাটক, ধর্ম্মশাস্ত্র, পুরাণ প্রভৃতি যদি পাওয়া যায় এবং ঐ সকল গ্রন্থের কাল নির্ণয় যদি কোন প্রকারে করিতে পারা যায়, তাহা হইলে আমরা বহুল পরিমাণে উক্ত জাতির সামাজিক ইতিবৃত্ত নির্ণয় করিতে পারি। মনে করুন বেদের কোন স্থানে যদি এরূপ একটী স্তুতি দেখি—হে ইন্দ্র! তুমি ত্বরায় তোমার উপাসকগণের নিকট এস, বণিক সমুদ্রে পোত প্রেরণ করিয়া যেরূপ উৎসুক অন্তরে অপেক্ষা করে, আমরাও সেইরূপ তোমার জন্য উৎকণ্ঠিত চিত্তে অপেক্ষা করিতেছি। এতদ্দ্বারা কি এরূপ অনুমান করা যায় না যে, যে সময়ে বেদের উক্ত সূক্তটী রচিত হইয়াছিল যে সময়ে নিশ্চয় বাণিজ্যার্থ সমুদ্রে গমনাগমন হইত ? এইরূপে জাতিভেদ Read More …

বিলাসের ফাঁস-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  ইংরেজ আত্মপরিতৃপ্তির জন্য পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি খরচ করিতেছে, ইহা লইয়া ইংরেজি কাগজে আলোচনা দেখা যাইতেছে। এ কথা তাহাদের অনেকেই বলিতেছে যে, বেতনের ও মজুরির হার আজকাল উচ্চতর হইলেও তাহাদের জীবনযাত্রা এখনকার দিনে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি দুরূহ হইয়াছে। কেবল যে তাহাদের ভোগস্পৃহা বাড়িয়াছে তাহা নহে, আড়ম্বরপ্রিয়তাও অতিরিক্ত হইয়া উঠিয়াছে। কেবলমাত্র ইংলণ্ড এবং ওয়েল্‌সে বৎসরে সাড়ে তিন লক্ষের অধিক লোক দেনা শোধ করিতে না পারায় আদালতে হাজির হয়। এই – সকল দেনার অধিকাংশই আড়ম্বরের ফল। পূর্বে অল্প আয়ের লোক সাজে সজ্জায় যত বেশি খরচ করিত, এখন তাহার চেয়ে অনেক বেশি করে। বিশেষত মেয়েদের পোশাকের দেনা শোধ করিতে গৃহস্থ ফতুর হইতেছে। যে – স্ত্রীলোক মুদির দোকানে কাজ করে, ছুটির দিনে তাহার কাপড় দেখিয়া তাহাকে আমীর – ঘরের মেয়ে বলিয়া ভ্রম হইয়াছে, এমন ঘটনা দুর্লভ নহে। বৃহৎ ভূসম্পত্তি হইতে যে – সকল ড্যুকের বিপুল আয় আছে, বহুব্যয়সাধ্য নিমন্ত্রণ – আমন্ত্রণে তাহাদেরও টানাটানি পড়িয়াছে, যাহাদের অল্প আয় তাহাদের তো কথাই নাই। ইহাতে Read More …

কীটপতঙ্গের নৃত্য ও যন্ত্রসংগীত: একটি সঙ্গীততাত্বিক বিশ্লেষণ-দেবাশিস মণ্ডল

সংক্ষিপ্তসার কীটপতঙ্গ প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময়কর শব্দ-সৃষ্টিকারী প্রাণী, যারা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছন্দবদ্ধ ও কাঠামোবদ্ধ শব্দ তৈরি করে। এখানে কীটপতঙ্গের শব্দ উৎপাদন প্রক্রিয়া, তার বিবর্তনমূলক গুরুত্ব এবং এর কার্যকরী ভূমিকা আলোচিত হয়েছে। কীটপতঙ্গরা প্রধানত ঘর্ষণ (Stridulation), টিম্বাল কম্পন (Tymbal Mechanism), ডানা স্পন্দন, মাটিতে আঘাত এবং স্থিতিস্থাপক কম্পনের মাধ্যমে শব্দ তৈরি করে। এই শব্দের মাধ্যমে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে, সঙ্গী আকর্ষণ করে, নিজস্ব এলাকা চিহ্নিত করে এবং শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করে। ঝিঁঝিঁ পোকা, সিকাডা ও মৌমাছির মতো কীটপতঙ্গের শব্দ উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই লেখাটি কীটপতঙ্গের সঙ্গীতের পরিবেশগত গুরুত্ব ও তাদের টিকে থাকার কৌশল তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, কীটপতঙ্গের সুর ও মানুষের সঙ্গীতপ্রবণতার তুলনামূলক বিশ্লেষণও করা হয়েছে, যা জীবজগতের শব্দ ও ছন্দের সার্বজনীনতার প্রমাণ বহন করে। আলোচনার যে ফলাফল তাতে প্রাকৃতিক শব্দ পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতির এই অনন্য প্রাণীগুলি বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগঠিত ও ছন্দময় শব্দ উৎপন্ন করে, যেমন স্ট্রিডুলেশন (ঘর্ষণজনিত শব্দ), Read More …